ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে একটি মন্দিরের কাছে অপেক্ষারত ভক্তদের ওপর ধানবোঝাই ট্রাক উঠে যাওয়ার ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় সময় আজ রোববার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে—শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার (রোববার) দিকে গোয়ালিয়রের শীতলামাতা মন্দির সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ধানবোঝাই ট্রাকটি মন্দিরের কাছে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকা ভক্তদের ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাকটি মন্দিরের দেয়ালে গিয়ে আঘাত করে।
গোয়ালিয়রের পুলিশ সুপার ধরমবীর যাদব বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি রাস্তার পাশে অপেক্ষারত ভক্তদের চাপা দিলে ১৩ জন নিহত হন। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
এর আগে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার একটি পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন বহু দর্শনার্থী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার অন্তর্গত চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে গেছে, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে দর্শনার্থীরা প্রবীণ শারদা পার্ক (চোরবাগান) মণ্ডপ থেকে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মণ্ডপের প্রস্থান গেটে উপচে পড়া ভিড় ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে দর্শনার্থীরা হুড়োহুড়ি শুরু করে। এতেই পদদলনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (এমসিএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে লালবাজার কন্ট্রোল রুম, ফায়ার সার্ভিস, কলকাতা পুলিশ, ডিএমজি (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ) টিম এবং একাধিক অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপটি বর্তমানে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভিড়ের চাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই অনেকে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগেই আশপাশের মানুষ মোটরসাইকেল ও অন্যান্য বাহনে করে বহু আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী আক্ষেপ করে বলেন, ‘মণ্ডপে ঢোকা ও বের হওয়ার পথ দুটিই সংকীর্ণ ছিল। এ ছাড়া ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলো বা আলোকসজ্জার ব্যবস্থা ছিল না।’