হোম > বিশ্ব > ভারত

গঙ্গা পানি চুক্তি কারিগরি আলোচনা চলছে: ভারত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা এখনও চলছে। তারা জানিয়েছে, গঙ্গাসহ (বাংলাদেশে পদ্মা) দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন যেসব নদী রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা ও বিষয়গুলোর সমাধান করা হয় যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য আগে থেকেই একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গঙ্গা পানি চুক্তির ক্ষেত্রে, এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন অন্যান্য নদীর ক্ষেত্রেও আমাদের একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। নদী-সংক্রান্ত সব বিষয় এই কমিশনের আওতায় আলোচনা করা হবে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনা চলছে।’

ভারতের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এমন এক সময় এল, যার আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তিনি বলেন, এসব চুক্তি ও সমঝোতার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না এবং বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে কোনো বিষয় সাংঘর্ষিক কি না, তা যাচাই করা হবে। যদি এমন কোনো বিষয় পাওয়া যায়, তাহলে তা দুই দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সংশোধন বা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এএনআইকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘চুক্তিগুলো বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা বাংলাদেশের নেই। তবে পর্যালোচনার সময় যদি এমন কোনো ধারা বা বিধান পাওয়া যায়, যা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে সেগুলো পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করব, সেখানে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না তা দেখব। যদি কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বিদ্যমান চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করবে এবং কোনো অসঙ্গতি আছে কি না তা যাচাই করবে। কেবল কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলেই তা সমাধানের জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার এসব চুক্তি পর্যালোচনা করছে এমন খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নয়াদিল্লি বিষয়টি নজরে রেখেছে বলে জানায়। তবে ভারত বলেছে, এ বিষয়ে ঢাকার কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।

চলতি মাসের শুরুতে এক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, ‘আমরাও এ বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অবশ্যই, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’