হোম > বিশ্ব > ভারত

বিষ মেশানো মিষ্টি খাইয়ে ৩ সন্তানকে হত্যা, মায়ের নাটকীয়তার অবসান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পাঞ্জাব পুলিশের হাতের আটক তিন সন্তানের জননী লাভপ্রীত কৌর। ছবি: সংগৃহীত

একে একে তিন সন্তানের মৃত্যু। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং। কিন্তু পরে জানা যায়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নাটকীয় ঘটনাটি ভারতের পাঞ্জাবের। নিজের তিন শিশুসন্তানকে কীটনাশক মেশানো মিষ্টি খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পাঞ্জাবের সানগ্রুর এলাকায় ঘটা এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ‘খাদ্যে বিষক্রিয়া’ (ফুড পয়জনিং) বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওই নারী।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট রহস্যজনকভাবে মারা যায় একই পরিবারের ৬ বছর বয়সী জশনূর কৌর, ৫ বছর বয়সী আরমানদীপ সিং এবং আড়াই বছর বয়সী রেহানদীপ সিং। প্রথমে ঘটনাটি খাদ্য বিষক্রিয়া বলে মনে করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

মৃত তিন শিশুর বাবা পেশায় একজন ট্রাকচালক। ওই ঘটনার পর তাঁর করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাখীবন্ধন উৎসব উপলক্ষে বাজার থেকে আনা মিষ্টি খাওয়ার পরপরই শিশুদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং তারা মারা যায়।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রবজ্যোৎ কৌর গ্রোয়াল জানিয়েছেন, শিশুদের মা লাভপ্রীত কৌর হারজিৎ সিং নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁরা পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে তিন শিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

যে দোকান থেকে মিষ্টি কেনা হয়েছিল, সেই দোকানের মিষ্টি খেয়ে অন্য কারও কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা হয়নি। এর থেকেই পুলিশের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী অনুসন্ধানে পুলিশ নিশ্চিত হয়, বাজার থেকে আনা মিষ্টির মধ্যে আলাদাভাবে আগাছানাশক বা কীটনাশক মেশানো হয়েছিল এবং তা কৌশলে ওই তিন শিশুকে খাইয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত মা লাভপ্রীত কৌরকে ইতিমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন প্রেমিক হারজিৎ সিং। তাঁকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা বিষাক্ত মিষ্টি এবং অন্যান্য আলামত রাসায়নিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ ।