ভারতে নিজেদের পণ্যকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে প্রচারের ক্ষেত্রে আইনি জয় পেয়েছে অস্ট্রিয়ার পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেড বুল। দেশটির খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রেড বুলের পণ্যে ‘এনার্জি ড্রিংক’ শব্দ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) গত জুনে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে উল্লেখ না করার নির্দেশ দিয়েছিল। এতে রেড বুলের পাশাপাশি পেপসি, মনস্টার ও রিলায়েন্সের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলোও প্রভাবিত হয়।
রেড বুলের দাবি ছিল, কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ বা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়েই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভারতে ২০০২ সাল থেকেই তারা তাদের পণ্যে ‘এনার্জি ড্রিংক’ শব্দটি ব্যবহার করে আসছে। হঠাৎ করে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তাদের বিদ্যমান ও পরিকল্পিত বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আদালত রেড বুলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে জানায়, কোম্পানিকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার কোনো সুযোগ না দিয়েই ওই নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। ফলে এফএসএসএআইয়ের আদেশটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
তবে ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সামনে রেখে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
রেড বুল আদালতে আরও যুক্তি দেয়, পণ্যের বিদ্যমান মানদণ্ডে কোনো পরিবর্তন না এনে হঠাৎ ‘এনার্জি ড্রিংক’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এতে ভারতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
ভারতে এনার্জি ড্রিংকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। ইউরোমনিটরের হিসাবে, দেশটির খুচরা এনার্জি ড্রিংক বাজার বছরে প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাজার বৃদ্ধির হারের চেয়েও বেশি। ২০১৭ সালে পেপসি ‘স্টিং’ বাজারে আনার পর দেশটিতে এ ধরনের পানীয়ের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।
রেড বুলের ভারতে আয়ও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৩ কোটি ডলার, যা চার বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তবে এনার্জি ড্রিংকের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব পানীয়তে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যাফেইন, চিনি ও টরিন থাকে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন। যুক্তরাজ্য আগামী এপ্রিল থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এ ধরনের পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে।