ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্ধরে প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রভাবশালী নেতা লাকি ওবেরয়। আজ শুক্রবার সকালে মডেল টাউন এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় পাঞ্জাবজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও লাকি ওবেরয় জলন্ধরের মডেল টাউন গুরুদুয়ারায় প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন। সকাল ৭টা ৫০ মিনিট নাগাদ প্রার্থনা সেরে তিনি যখন গুরুদুয়ারা থেকে বেরিয়ে নিজের কালো রঙের থর এসইউভিতে উঠছিলেন, ঠিক তখনই একটি মোটরসাইকেলে করে দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারী সেখানে হাজির হয়।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতকারীরা ওবেরয়কে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ৮ থেকে ১০টি গুলি চালানো হয়েছে। ওবেরয়ের গাড়ির কাচ গুলির আঘাতে চুরমার হয়ে যায় এবং একাধিক গুলি তাঁর শরীরে লাগে। ঘটনার পরপরই দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় লাকি ওবেরয়কে দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কৌর রান্ধাওয়া পরে সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং গভীর ক্ষত হওয়ার কারণে তিনি মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এক্স হ্যান্ডলে পাঞ্জাব সরকারের তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, ‘পাঞ্জাবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ধস নেমেছে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ শাসক দলের নেতারাই সুরক্ষিত নন। আম আদমি পার্টি পাঞ্জাবের জন্য একটি অভিশাপ বা পাপ।’
উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে গত ৪ জানুয়ারি অমৃতসরে একইভাবে আরেক আপ নেতা জারমাল সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে পাঞ্জাব পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং অপরাধীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে গুরুদুয়ারা ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’ বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা।
এই হত্যাকাণ্ডের জেরে জলন্ধর জুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।