হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতে দ্বিমুখী আন্দোলনে বিরোধীরা, দিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন শীর্ষ নেতারা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ককরোচদের পাশাপাশি আন্দোলন জোরদার করছে বিরোধী দলগুলোও। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার একই সঙ্গে রাজপথ এবং আইনি প্ল্যাটফর্মে আন্দোলন জোরদার করছে দেশটির বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। নির্বাচন কমিশনারদের বিচার বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দিয়ে প্রণীত ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইনটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

অবরোধ ও বেআইনি আটক বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিরোধীরা তাঁদের আন্দোলন আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার দেশটির রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা জড়ো হচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দিল্লিতে অবস্থান করছেন। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) তেজস্বী যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও দিল্লিতে পৌঁছাচ্ছেন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বেঙ্গালুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের ২০২৩ সালের আইনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘মোদি সরকার এমন এক আইন পাস করেছে, যা ভারতের রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতিকেও দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনারদের এই অভূতপূর্ব সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সুরক্ষা দেওয়ার পর থেকেই ভোট চুরি, ইভিএম কারচুপি এবং নির্বাচনী জালিয়াতির মূল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যত ভুলই করুন না কেন, তাকে আজীবন আইনি দায়বদ্ধতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার এক প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্র।’

ইন্ডিয়া জোটের নেতারা ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত বিরোধীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে অসম্মতি জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে নিয়মিত পিটিশন দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত স্মারকপত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:—২০২৩ সালের আইনের মাধ্যমে অবসর গ্রহণের পরও সিইসিকে তদন্ত বা শাস্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিধান; নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া; ‘ইলেকট্রনিক্যালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম’ (ETPBS)-এর মাধ্যমে কথিত ভোট চুরির অভিযোগসংক্রান্ত প্রামাণ্য নথি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কংগ্রেস তাদের লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সংসদ সদস্যকে দিল্লিতে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁর নির্ধারিত গোয়া সফর স্থগিত করে দলের সাধারণ সম্পাদক ও অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।

৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার সময় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে পুলিশ আটক করার পর থেকেই দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ জোরালো হতে থাকে। পরবর্তীকালে রাজঘাটে অবস্থান কর্মসূচিসহ নানা প্রতিরোধ গড়ে তোলে জোটটি।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জোট নেতাদের তথ্যমতে, রাজধানীজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ এবং সাত হাজারেরও বেশি আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গত শনিবারই বিক্ষোভের চেষ্টা করা প্রায় তিন হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে ‘অভূতপূর্ব দমনপীড়ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।