ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন—এমন অভিযোগ এনে ৬০০ জনকে তথাকথিত ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে আবার ১৫০ জনকে গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর বা ‘পুশ ইনের’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই স্থানান্তর করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামীকাল বুধবার আরও ১৫০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন পুরো কাশ্মীর উপত্যকায় এক জরিপ চালায়। ওই জরিপে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০০ জনকে তথাকথিত ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং অভিযোগ আনা হয়, তাঁরা অবৈধভাবে অবস্থানরত।
কর্মকর্তারা বলেন, এসব ব্যক্তিকে শ্রীনগর পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বাগডোগরা পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি জেলায় অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলাসংলগ্ন।
গতকাল সোমবার ১৫০ জনের একটি দলকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে বাগডোগরায় নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। তাঁরা আরও জানান, আরও ১৫০ জনকে ৭ অক্টোবর অর্থাৎ আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করা হবে।
এই পদক্ষেপ এমন সময় নেওয়া হলো, যখন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে জনমিতিক পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন এই কমিটিকে জানিয়েছে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৬০০ জনকে তথাকথিত ‘বাংলাদেশি’ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ মে এই কমিট গঠন করে। অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট জনমিতিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করা এবং এসব পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করাই কমিটির উদ্দেশ্য। কমিটিকে এক বছরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, কমিটি বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাছে গত ১৫ বছরে বিভিন্ন জেলার, শিল্পাঞ্চলের এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর ধর্মীয় জনমিতিতে ‘দৃশ্যমান পরিবর্তন’ সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। গত দুই মাসে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কমিটি বিভিন্ন বছরের পরিবর্তন তুলে ধরে ‘সময়ভিত্তিক তথ্য’ চেয়েছে।
এর পাশাপাশি অন্যান্য প্রশাসনিক তথ্য, জনমিতির ক্ষেত্রে ‘মূল প্রবণতা’ সম্পর্কে রাজ্য সরকারের মূল্যায়ন এবং ২০১১ সাল থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কাঠামোসংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।