হোম > বিশ্ব > ভারত

৭০-এর দশকে আসা সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব—সরকারকে প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কলকাতা হাইকোর্ট। ছবি সংগৃহীত

১৯৭০-এর দশকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসা সব মানুষকে কি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বাস্তবে সম্ভব—পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এই প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটকে রাখা এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এই পর্যবেক্ষণ জানান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

শুনানি চলাকালে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ‘সত্তরের দশকে কত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন? তাদের সবাইকে কি পুরোপুরি ফেরত পাঠানো সম্ভব? সীমান্তবর্তী জেলাগুলো ঘুরে দেখুন। এটা কি আদৌ সম্ভব?’

গত ১০ আগস্ট মুর্শিদাবাদে একটি ‘বিশেষ অভিযান’ চালানোর সময় সাহিদুল শেখ নামের এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। এরপর থেকে তাঁকে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে মামলাটি যখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ছিল, তখনই গত ২৮ সেপ্টেম্বর ‘ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (এফআরও) সাহিদুলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই আদেশের পরপরই বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়।

কোন তথ্যের ভিত্তিতে সাহিদুল শেখকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উচ্চ আদালত। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্থানীয় পুলিশের দাখিল করা হলফনামার জবাব দেওয়ার সুযোগ সাহিদুলকে দেওয়া উচিত।

মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাঁকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ জারির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলে, ‘নতুবা আদালতের মনে হতে পারে যে, আবেদনকারী উচ্চ আদালতে আইনি সুরক্ষা চাইতে আসার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। তাঁকে যদি ফেরতই পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে এই আবেদনের আর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।’

শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল যুক্তি দেন, জাল বা জালিয়াতি করা নথিপত্র ব্যবহার করে যদি প্যান (PAN) বা আধার (Aadhaar) কার্ডের মতো পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়ে থাকে, তবে সেটিই তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য যথেষ্ট ভিত্তি হতে পারে।

তবে আদালত সাহিদুলের আটকাদেশ বাতিল না করলেও তাঁর ডিপোর্টেশন বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে। উপযুক্ত বেঞ্চে পরবর্তী শুনানির তারিখ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে বলে জানান আদালত।

চলতি অক্টোবর মাসেই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হতে পারে।