সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত অনেকেই। ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে অনেকে বেশ আয়ও করে থাকেন। তবে অনেক সময় এতে হিতে বিপরীতও যে হয়ে যায় তারই এক উদাহরণ হয়ে উঠলেন মধুমিতা। ভারতের কন্যাকুমারীর বাসিন্দা এই নারীর বাসা থেকে এক রাতে চুরি হয়ে গেছে সোনা ও হীরাসহ কোটি টাকার সম্পদ।
এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মধুমিতার পরিবারের সদস্যরা কেনাকাটা করতে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে চোরেরা নাগেরকোইলের ভিআইপি গার্ডেন এলাকায় তাঁদের বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখতে পান, লকার খোলা এবং ভেতরে রাখা মূল্যবান জিনিসপত্র নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, মধুমিতার পরিবারের বাড়ি থেকে প্রায় ১২০ ভরি সোনা ও হীরার গয়নাসহ বেশ কিছু নগদ অর্থ খোয়া গেছে। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি রুপি (বাংলাদেশি টাকায় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা)।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, মধুমিতা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ছবি ও ভিডিও আপলোড করতেন। তাঁর অনুসারী সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়েছে। তিনি ছবি ও ভিডিওতে নিজের বিলাসী জীবনযাপন তুলে ধরতেন। এ সময় সোনা-হীরার গয়না ও নগদ টাকাও দেখাতেন তিনি।
মধুমিতার পুরোনো একটি রিলেও দেখা যায়, নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র কীভাবে নিরাপদে রাখতে হয়, তা তিনি জানেন বলে দাবি করেছিলেন।
এখন সেই পোস্ট ও রিলই পুলিশের তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। এসব পোস্ট বা ভিডিও থেকে চোরেরা তাঁর বাড়ির অবস্থান কিংবা পরিবারের চলাফেরার বিষয়ে কোনো তথ্য পেয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ আরও দেখছে, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম চোরদের পরিবারের চলাফেরার ওপর নজর রাখতে কোনোভাবে সহায়তা করেছিল কি না। বিশেষ করে গয়না ও নগদ টাকা দেখানো পোস্ট ও রিল এবং একটি শিশুর গায়ে নগদ টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার ভিডিওও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ।