হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতের ‘আসল বস’ কি আম্বানি—মোদিকে খোঁচা দিয়ে ইলন মাস্কের প্রশ্ন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি (বায়ে) ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা চালুর পথে বাধা দেওয়ায় ভারতের কয়েকজন ধনকুবেরকে দায়ী করেছেন ইলন মাস্ক। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোঁচা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তাঁর প্রশ্ন—ভারতের শীর্ষ ধনী আম্বানিই কি তবে ভারতের প্রকৃত বস?

মোদিকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করে করা মাস্কের এই মন্তব্য দেশটির টেলিযোগাযোগ খাতে একচেটিয়া আধিপত্যের বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছে।

এর আগে ভারতে নিজের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন ‘অলিগার্ক’ বা প্রভাবশালী ধনকুবের নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ভারতীয় জনগণের জন্য সেবাটি চালুর পথে বাধা দিচ্ছেন।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘আপনারা অনুমান করতে পারেন, তাঁরা কারা।’ পরদিনই তিনি তাঁর আরও এক পোস্টে সরাসরি আম্বানির নাম উল্লেখ করে বাঁকা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন।

মাস্কের মন্তব্যে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘অন্যজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগপর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’ তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের আরও এক ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদানি ও আম্বানি—দুজনের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। মাস্ক প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘এটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানায়, ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে আম্বানির রিলায়েন্স জিও ও সুনীল ভারতী মিত্তালের ভারতী এয়ারটেলের বড় প্রভাব রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটির সম্মিলিত ব্রডব্যান্ড গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৯১ কোটি, যা দেশের মোট গ্রাহকের ৮০ শতাংশের বেশি।

স্টারলিংকের অনুমোদন প্রসঙ্গে মাস্ক বলেন, ১৬৫টির বেশি দেশে লাইসেন্স পাওয়া তাঁর এই প্রতিষ্ঠান ভারতে পাঁচ বছর ধরে সরকারের সব আইন ও শর্ত মেনে চলেছে। এরপরও কেন অনুমোদন মিলছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, স্টারলিংক চালু হলে যাঁরা বর্তমান মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন না কিংবা সংযোগ থেকে বঞ্চিত, তাঁরাও সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট পাবেন।

তবে মাস্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদনে বৈষম্যহীন কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান এ সেবার লাইসেন্স চেয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টারলিংক, রিলায়েন্স জিও ও ভারতী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব হিসেবে শনাক্ত করেছে।

স্টারলিংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ারও বলেছেন, ভারত অনুমোদন দিলেই দেশটিতে সেবা দিতে প্রস্তুত তাঁদের প্রতিষ্ঠান।

এদিকে আম্বানির জিও প্ল্যাটফর্মসও ভারতে নিম্নকক্ষপথের প্রায় ১ হাজার ৬০০ স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। ফলে ভারতের বিশাল ইন্টারনেট বাজারে স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা ঘিরে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।