ইউরোপের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের’ জবাব হিসেবে রাশিয়ায় সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেসলে ও ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আশানের (Auchan) সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ‘অবন্ধুসুলভ’ দেশগুলোর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ রুশ সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বর্তমানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে ‘সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে’ যুক্ত রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পেসকভ সরাসরি ফ্রান্স বা সুইজারল্যান্ডের নাম উল্লেখ করেননি। তবে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহকারী পশ্চিমা দেশগুলোকে কার্যত সংঘাতের পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে রাশিয়া। সুইজারল্যান্ড ইউক্রেনকে অস্ত্র না দিলেও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় মস্কোর বিরাগভাজন হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জারি করা এক ডিক্রির মাধ্যমে নেসলে ও আশানের রাশিয়ার সম্পদ সাময়িকভাবে প্রশাসনের অধীনে নেওয়া হয়েছে। সম্পদগুলোর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত অপরিচিত প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টকে।
সুইস সরকার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নেসলে কোম্পানিকে সম্পদগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় সহায়তা করার কথা জানিয়েছে। নেসলে বলেছে, তারা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
রাশিয়ায় ফরাসি কোম্পানি আশানের প্রায় ২৩০টি দোকান ও অনলাইন ব্যবসা রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০ হাজার কর্মী রয়েছেন। অন্য দিকে রাশিয়ায় নেসলের ছয়টি কারখানা রয়েছে এবং প্রায় সাত হাজার কর্মী কাজ করেন। কফি, পোষা প্রাণীর খাবার, শিশুখাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২১ সালে রাশিয়ায় নেসলের বিক্রি ছিল প্রায় ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা তখন কোম্পানিটির মোট বিক্রির প্রায় ২ শতাংশ। তবে রাশিয়ায় কার্যক্রম কমিয়ে আনার পর বর্তমানে দেশটি থেকে নেসলের মোট বিক্রির অংশ প্রায় ১ শতাংশে নেমে এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ২০২২ সালের আগ্রাসনের পর থেকে বিদেশি মালিকানাধীন সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ মস্কো ক্রমেই বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের একটি ডিক্রির আওতায় ‘অবন্ধুসুলভ’ দেশের কোম্পানির সম্পদ সাময়িক প্রশাসনের অধীনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এর আগে ফরাসি দুগ্ধ কোম্পানি দানোন ও ডেনমার্কের কার্লসবার্গের রাশিয়ার সম্পদও একই ধরনের ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নেসলে ও আশানের ক্ষেত্রেও সাময়িক নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দিকে যেতে পারে। তবে পেসকভ বলেছেন, আপাতত শুধু সাময়িক প্রশাসনের কথাই বিবেচনা করা হচ্ছে।