টেলিগ্রাম ম্যাসেজিং অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে মামলা করেছে রাশিয়া। দেশটির অভিযোগ, জনপ্রিয় এই ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা রাশিয়ার ভেতরে নাশকতা ও হামলা সংগঠিত করছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) দুরভের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানায়। এর পরপরই টেলিগ্রামের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দুরভের মধ্যাঙ্গুলী প্রদর্শনের একটি ছবি পোস্ট করা হয়।
রাশিয়ার এফএসবি ও তদন্ত কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেলিগ্রামে থাকা ‘দাইভিনচিক/লিও’ নামের একটি চ্যাটবট ব্যবহার করে রাশিয়ার তরুণদের নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিয়োগের চেষ্টা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনী। রাশিয়ায় টিন্ডার বন্ধ থাকায় ‘দাইভিনচিক/লিও’ একটি জনপ্রিয় ডেটিং চ্যাটবট হিসেবে পরিচিত। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা তরুণী সেজে সেখানে রুশ নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং পরে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে বাধ্য করত।
এফএসবি জানিয়েছে, গত এক বছরে এভাবে নিয়োগ পাওয়া ১২ থেকে ২২ বছর বয়সী ৪৬ রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা এবং পরিবহন, জ্বালানি, যোগাযোগ ও আর্থিক অবকাঠামোয় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া দুরভকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করেছে বলেও জানিয়েছে এফএসবি। তবে তাঁকে ধরতে কী ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ইন্টারপোলও এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে টেলিগ্রাম দুই পক্ষের কর্মকর্তা, সেনাসদস্য ও প্রভাবশালী ব্লগারদের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যমে পরিণত হয়েছে। মস্কো সম্প্রতি বিদেশি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অংশ হিসেবে টেলিগ্রামের ব্যবহার সীমিত করেছে। তবে ক্রেমলিন ও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো নিয়মিত প্ল্যাটফর্মটিতে তথ্য প্রকাশ করে।
রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া দুরভ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্সের নাগরিক। টেলিগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে ২০২৪ সালে ফ্রান্সে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুরভ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, অপরাধ দমনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা এবং কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে টেলিগ্রাম তার দায়িত্বের চেয়েও বেশি করেছে।
দুরভ ২০১৪ সালে রুশ কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে রাশিয়ার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকন্তাকতের নিজের অবশিষ্ট শেয়ার বিক্রি করে দেশ ছাড়েন। বর্তমানে তাঁর অবস্থান কোথায়, তা নিশ্চিত নয়।