কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উপস্থিতিতে লিয়েন নজিরবিহীন এই প্রস্তাব দেন।
ফন ডার লিয়েন মত দেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভূরাজনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে যথা সম্ভব সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চাই। আমাদের অংশীদারত্বকে জরুরিভিত্তিতে নতুনভাবে ভাবতে হবে।’
এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাঁর দেশের অতিরিক্ত বাণিজ্যনির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কানাডা ও ইউরোপীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলায় অটোয়া ও ব্রাসেলসের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
ফন ডার লিয়েন জানান, বিদ্যমান ইইউ-কানাডা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানো হবে। আর্কটিক অঞ্চলকেও দুই পক্ষের যৌথ প্রকল্পের অন্যতম কেন্দ্র করা হবে।
তবে ‘সহযোগী সদস্য’ বলতে ঠিক কী বোঝাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২৭ সদস্যের ইইউতে এ ধরনের সদস্যপদের কোনো বিদ্যমান কাঠামো নেই। নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ইইউর ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও তারা ইউনিয়নের সদস্য নয়।
আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনে প্রস্তাবটি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা। এরই মধ্যে কানাডার সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—২০১৬ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এখনো ১০টি ইইউ সদস্যদেশ তা অনুমোদন করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতা ইইউকে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও নমনীয় কাঠামো তৈরির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।