স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় (Ceuta) অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢলের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করা ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অধিকাংশই শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তবে এই ব্যাপক অনুপ্রবেশের সময় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মরদেহ স্পেনের সীমান্ত এলাকার দিক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরক্কোর দিকেও আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সেউতার সরকারি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নিহতদের কেউ পানিতে ডুবে এবং কেউ সীমান্ত বেড়া রক্ষাকারী বাঁধে ওঠার সময় পদদলিত হয়ে মারা গেছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছেন। তবে সেউতার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের দাবি, গত দুই দিনে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মানুষের সংখ্যা ৬০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
সীমান্তে আরও মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। জলকামানও মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের পর একটি বাস ও সাতটি গাড়ির পোড়া ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। সীমান্তের স্প্যানিশ অংশে সামরিক যানও মোতায়েন করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক শ মানুষ সীমান্তের বিভিন্ন ফাঁক ও প্রবেশপথ দিয়ে মরক্কোয় ফিরে যাচ্ছিলেন। তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সেউতায় প্রবেশের পর খাবার ও আশ্রয়ের সংকটে পড়েছিলেন। তানজিয়ার এক তরুণ মরক্কান বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কেন এসেছিলাম তা-ই জানি না। এখন ফিরে যাচ্ছি।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের ‘ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেউতা ও মেলিয়া—উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর—আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব সীমান্ত ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছেন। তবে এবারের ঢলের ব্যাপকতা নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে ইউরোপের সীমান্তমুক্ত শেনজেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। মাদ্রিদ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে পুলিশ ও নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় নতুন করে সীমান্ত পেরোনোর বেশির ভাগ চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, সীমান্তের আশপাশে এখনো অভিবাসীদের ছোট ছোট দল ইউরোপে প্রবেশের পথ খুঁজছে।