ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে আবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শনিবার রাজধানী কিয়েভজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার ভোরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পর রাজধানীর দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য কিয়েভের বাসিন্দারা জানান, বিকট বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে।
আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, শনিবার কিয়েভের কাছে বোরিসপিল এলাকার তিনটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে আবাসিক ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি ভবনে আগুনও ধরে যায়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, একটি ভবন ও একটি জ্বালানি ট্যাংকে লাগা আগুন নেভাতে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন।
কিয়েভের গ্যারেজ, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি ভবনে আগুন লাগার ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের দুর্বল হয়ে পড়া আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ক্রমেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হলো। এতে রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা এবং কিয়েভের সেই হামলা ঠেকানোর সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছুটে যায় এবং অত্যন্ত খাড়া পথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার জন্য অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই ইউক্রেনের হাতে থাকা একমাত্র অস্ত্র, যা এসব ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভরযোগ্যভাবে প্রতিহত করতে পারে। তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজেদের শহরগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ইন্টারসেপ্টর তাদের কাছে নেই।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। তিনি এর জন্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে দায়ী করেন। ওই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেন সরকারের উপদেষ্টাদের ধারণা, রাশিয়া এখন মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। আর শীত শুরু হলে মস্কো তাদের আক্রমণ আরও জোরালো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ রুশ হামলার সময় ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারও ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করে এমন লজিস্টিকস বা সরবরাহকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হন।