হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

কিশোরদের সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএফপি

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল আটকে দিয়েছেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেশটির সাংবিধানিক পরিষদ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর জন্যও বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিলটি পাস হলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নতুন করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকত না। ইতিমধ্যে খোলা অ্যাকাউন্টগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে চার মাসের মধ্যে বন্ধ করতে হতো। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের জন্য ফরাসি গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত ব্যবস্থা চালুর কথা ছিল।

তবে সাংবিধানিক পরিষদ বলেছে, বিলটিতে বয়সের প্রমাণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেই তথ্য কীভাবে, কোন শর্তে এবং কী সীমার মধ্যে সরবরাহ করা হবে, তা যথেষ্ট স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জুলাইয়ে ফরাসি পার্লামেন্ট বিলটি অনুমোদন করেছিল। ইউরোপে এটি ছিল কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রথম বড় উদ্যোগ। এর আগে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ সীমিত করেছিল।

ফ্রান্সের উদ্যোগের পাশাপাশি চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে বা এমন পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ক্ষতিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফিচার থেকে শিশুদের সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সাধারণ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, বয়সসীমা ও শিশু সুরক্ষায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে আদালতের আপত্তিগুলো বিবেচনায় নিয়ে বিলটি নতুন করে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বসন্তে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই সংস্কারটি কার্যকর করতে মাখোঁ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ অবশ্য মাখোঁর নেই।