হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

মস্কোয় ইউক্রেনের ১৬০০ ড্রোনের হামলায় নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত বড় তেল শোধনাগার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মস্কো অঞ্চলের জেরঝিনস্কি থেকে তোলা ছবিতে রাশিয়ার তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম নেফতের মস্কো তেল শোধনাগার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: এএফপি

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের শত শত ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় একটি বড় তেল শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে এই হামলা চালানো হয়। আজ রোববার মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১ হাজার ৬০০ টিরও বেশি ড্রোন শনাক্ত করে প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে ৪৫০টি ড্রোন মস্কোর দিকে যাচ্ছিল।

সোবিয়ানিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার তিন দিনব্যাপী পার্লামেন্ট নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগও করেন। এই নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ২৬ বছরের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে বলেন, ‘এই নজিরবিহীন হামলা নির্বাচন ব্যাহত করার লক্ষ্যেই স্পষ্টভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শত্রুরা সফল হয়নি।’

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুটি পৃথক স্থানে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ও এক বয়স্ক পুরুষ নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, একটি ২১ তলা ভবনে ড্রোন আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় ৪০০ জনকে ভবনটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও জোরদার করার মধ্যে সর্বশেষ এই হামলা চালানো হলো। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে কিয়েভ। এর উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার জন্য ক্রেমলিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগানোর গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজস্ব উৎস বন্ধ করে দেওয়া। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পড়েছে।

সোবিয়ানিন আরও বলেন, ‘মস্কো তেল শোধনাগারের এলাকায় থাকা একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। এই বড় তেল শোধনাগারটি গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের হামলার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি এমন সময় হলো, যখন গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়ায় ভোটগ্রহণের সময়ও এই হামলা চালানো হলো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ওই সামরিক অভিযানই এমন একটি যুদ্ধের সূচনা করে, যাতে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। রাশিয়া সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেনের যেসব এলাকা দখল করেছে, সেসব স্থানেও ভোটের আয়োজন করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কমান্ড জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ১৩৮টি ড্রোন পাঠিয়েছে। ইন্টারফ্যাক্স-ইউক্রেন সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০১টি ড্রোন ভূপাতিত করতে বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।