হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

পুতিনের হুমকির পর রুশ ট্যাংকার জব্দ নিয়ে যুক্তরাজ্যের যুক্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গত জুনে রয়্যাল মেরিন কমান্ডোরা ইংলিশ চ্যানেলে ‘স্মির্টোস’ নামের রুশ ট্যাংকারটিতে আটক করে। ছবি: বিবিসি

ইংলিশ চ্যানেলে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গুপ্ত বহরের একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা বেড়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লা দিমির পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো রুশ জাহাজ জব্দের পদক্ষেপ নিলে রাশিয়াও ‘সমুচিত জবাব’ দেবে।

১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিবিসি জানায়, গত জুনে রয়্যাল মেরিন কমান্ডোরা ইংলিশ চ্যানেলে ‘স্মির্টোস’ নামের ট্যাংকারটিতে অভিযান চালিয়ে সেটি আটক করে। যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রুশ তেল পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ট্যাংকারটি দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ওয়েমাউথের কাছে নোঙর করা রয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে আছে।

জাহাজটির ক্যাপ্টেন অজয় পান্তের বিরুদ্ধে রুশ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ রুশ তেল সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সরবরাহ কিংবা পরিবহনে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। জাহাজটির ২৫ জন ক্রুর মধ্যে ২২ জনকে গত জুলাইয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের মহড়া পর্যবেক্ষণের সময় পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি রুশ জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা ও দস্যুবৃত্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে রাশিয়াকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে—প্রয়োজনে যেখানে রাশিয়া উপযুক্ত মনে করবে, সেখানেই।

রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার ভিক্টর লিনা অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সহ পশ্চিমা দেশগুলোরও নিজেদের ‘গুপ্ত নৌবহর’ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজ ও তাদের কথিত গুপ্ত বহর পরিদর্শন ও আটকের সক্ষমতা রাশিয়ারও রয়েছে।

তবে ব্রিটিশ সরকার বলেছে, স্মির্টোসে অভিযান পরিচালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি মেনে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, রাশিয়ার গুপ্ত বহরে ৭০০ টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে এবং এসব জাহাজ দেশটির নিষেধাজ্ঞাধীন তেল রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবহন করে। লন্ডনের দাবি, এই তেল ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে।

রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পুরোনো ট্যাংকার, জটিল মালিকানা কাঠামো ও অস্পষ্ট বিমাব্যবস্থার মাধ্যমে তেল পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পৃথকভাবে এসব জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু করে। আগস্ট ২০২৬-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬৩০টির বেশি জাহাজ ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।

চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অভিযোগে ৯টি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। ফলে রুশ তেল পরিবহন বন্ধে পশ্চিমা তৎপরতা এবং মস্কোর পাল্টা হুমকির মধ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।