হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

বিধ্বস্ত হওয়ার ৩০ সেকেন্ড আগেও স্বাভাবিক ছিল প্রিগোঝিনকে বহনকারী বিমান

রাশিয়ার ভাড়াটে সেনা সরবরাহকারী সংস্থা ভাগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোঝিনকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক ৩০ সেকেন্ড আগেও স্বাভাবিক ছিল। ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই তথ্য জানিয়েছে সুইডিশ ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়েতসিয়া জানিয়েছে, গতকাল বুধবার ভাগনার প্রধানকে বহনকারী এমব্রেয়ার লিগ্যাসি ৬০০ মডেলের বিমানটি মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তোভর অঞ্চলের কুঝেনকিনো গ্রামের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানায় রাশিয়ার জরুরি অবস্থা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিমানটিতে প্রিগোঝিনসহ মোট ১০ জন যাত্রী ছিলেন। 

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ৩০ সেকেন্ড আগেও স্বাভাবিক ছিল জানিয়ে ফ্লাইটরাডারের ইয়ান পেচেনিক বলেন, বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটের দিকে বিমানটির খাঁড়া পতন শুরু হয়। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ২৮ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে সোজা ৮০০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে।

পেচেনিক বলেন, ‘যা কিছুই ঘটে থাক, খুব দ্রুতই ঘটেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁরা (বিমানের পাইলট) সম্ভবত এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু বিমানটির এমন খাঁড়া পতনের আগেও এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি যে, সেটিতে কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে দেখা গেছে প্রিগোঝিনকে বহনকারী বিমানটির নাক প্রায় মাটির দিকে তাক করা এবং তা তীরবেগে ভূপৃষ্ঠের দিকে নামছে। একই সময়ে বিমানটির পেছন দিক থেকে ধোয়া অথবা বাষ্পের মতো কিছু একটা বের হতে দেখা যায়।

ভাগনার প্রধান প্রিগোঝিন পুতিনের শেফ ও বন্ধু হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ক্রেমলিন শাসকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগসূত্র ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছিলেন ভাগনার সেনারা। তবে রুশ সামরিক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ ছিল প্রিগোঝিনের।

গত ২৩ জুন রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বকে উৎখাতের জন্য ইউক্রেন সীমান্ত থেকে মস্কোর দিকে অভিযান শুরু করেন তিনি। পথে কয়েকটি শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন ভাগনারের যোদ্ধারা। ভাগনারের নিয়ন্ত্রণে যায় গুরুত্বপূর্ণ একটি রুশ সেনাঘাঁটি। বিদ্রোহ করে বসেন প্রিগোঝিন। সেই বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।

পরে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ভাগনার সেনারা রাশিয়া ছেড়ে বেলারুশে চলে যাবেন বলে সমঝোতা করেন প্রিগোঝিন।

বিদ্রোহের পর ভাগনার সেনারা বেলারুশে চলে যান। তবে ভাগনার প্রধান প্রিগোঝিনের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে যায়। তিনি বেলারুশে আছেন বলে খবর ছড়ায়। এমনকি তাঁর রাশিয়া সফর এবং পুতিনের সঙ্গে দেখা করার খবরও জানা যায়। কিন্তু তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

৬২ বছর বয়সী প্রিগোঝিন ঠিক দুই মাস আগে রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে একটি অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সঙ্গীদের নিয়ে পরে তাঁর মস্কো যাত্রা ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল যে—তাঁর জীবন হুমকির মধ্যে রয়েছে। 

ভাগনারের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রিগোঝিনকে বহন করা বিমানটিকে গুলি করে বিধ্বস্ত করা হয়েছে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই ন্যাটোর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছেন কি পুতিন

জার্মানিতে ১৫ রোগীকে হত্যার দায়ে চিকিৎসকের যাবজ্জীবন

ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত চায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস ইউরোপ, চীনা এসি কোম্পানির পোয়াবারো

ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে কিয়েভে রাশিয়ার দ্বিতীয় দফা হামলায় নিহত ৯

মোনাকোতে পার্সেল বোমা হামলা—ইউক্রেনীয় নারীকে খুঁজছে ইন্টারপোল

কিয়েভে রাশিয়ার নজিরবিহীন শক্তিশালী হামলা, নিহত অন্তত ২৭

ফ্রান্সে এসি কিনতে হুড়োহুড়ি, সামাল দিতে সুপারমার্কেটে পুলিশ

যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা

কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত অন্তত ৮