রাশিয়ার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর খারকিভ পুনর্দখলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, খারকিভ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে রুশ সেনারা।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, খারকিভে তিন দিন আগে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইউক্রেন। জোরালো পাল্টা আক্রমণের মুখে রুশ সেনারা পিছু হটতে শুরু করে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনের বাহিনী মাত্র তিন দিনে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা রুশ সেনাদের কাছ থেকে পুনর্দখল করেছে।
এর আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভে কুপিয়ানস্ক শহরে প্রবেশ করেছে। কুপিয়ানস্ক রাশিয়ান বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্র। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে এই এলাকা দখলে নিয়েছিল রাশিয়া।
ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে বলেছে, তাদের অফিসারদের কুপিয়ানস্ক শহরে দেখা গেছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা একটি পোস্ট দিয়েছেন। কুপিয়ানস্ক শহরের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘কুপিয়ানস্ক ইউক্রেনের’।
কুপিয়ানস্ক রেলওয়ে জংশনও পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে রুশ সেনারা এই জংশন ব্যবহার করত। এ অবস্থায় কুপিয়ানস্ক ও ইজিয়াম শহরে দ্রুত কামান ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র পাঠাচ্ছে রাশিয়া। এরই মধ্যে কুপিয়ানস্কে অবরুদ্ধ রুশ সেনাদের সহায়তা করতে বিমানবাহিনীর ইউনিট পাঠানো হয়েছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর কুপিয়ানস্ক পুনর্দখলের ফলে উত্তরাঞ্চলে রাশিয়ার সেনাদের পুনরায় পাঠানো আরও কঠিন হবে। ইউক্রেনের অভ্যন্তরে নিজেদের মধ্যে খাবার, জ্বালানি ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে এই রেলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতে হয় রুশ সেনাদের।
ইউক্রেনীয় সৈন্যরা ইজিয়ামেও অগ্রাভিযান চালিয়েছে। রাশিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রুশ সেনারা ইজিয়াম ত্যাগ করেছেন এবং ইউক্রেন বাহিনীর আক্রমণের মুখে কুপিয়ানস্ক ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ায় এই শহর থেকেও পিছু হটেছে।