হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

প্যান্ডোরার বাক্স খুলেছে ইউক্রেন, জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকুন—হুমকি পুতিনের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, এর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক খাতগুলোতে’ হামলা চালাবে। স্থানীয় সময় গতকাল পুতিন এই মন্তব্য করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি গ্রীষ্মে ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা আরও বাড়িয়েছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের গুদামে হামলা। ইউক্রেনের দাবি, এসব অবকাঠামো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এগুলো ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য।

এর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির অবকাঠামোও রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে পুতিন বলেন, ‘কিয়েভ সরকার আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে কী হলো? তারা নিজেরাই এই প্যান্ডোরার বাক্স খুলেছে। তাহলে এখন আমাদের জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আমরা আপনাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক খাতগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাব।’

পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার হামলার কারণে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকট তৈরি হবে না। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের রপ্তানি কমে গেলে রাশিয়া সেই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হবে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার শস্য রপ্তানির অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। তবে আমরা এসব সমস্যার সমাধান করব। ফলে বিশ্ববাজারে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।’

এর আগে রাশিয়া ও ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি সুরক্ষিত রাখতে তুরস্কের মধ্যস্থতায় করা একটি চুক্তি মেনে চলেছিল। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। রুশ নেতা আবারও বলেছেন, মস্কো শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে তাঁর মতে, সেই আলোচনা হতে হবে ‘মাঠের বাস্তবতার’ ভিত্তিতে। ইউক্রেন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যে ধরনের ‘অদ্ভুত’ বা ‘অবাস্তব’ প্রস্তাব দিয়েছে, সেসবের ভিত্তিতে আলোচনা করতে রাশিয়া রাজি নয়।