অস্কারজয়ী আইরিশ সংগীতশিল্পী ও গীতিকার গ্লেন হ্যানসার্ড সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ডাবলিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৫৬ বছর বয়সী এই শিল্পীর মৃত্যু হয়। তিনি জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘দ্য ফ্রেমস’-এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী ছিলেন এবং ১৯৯১ সালের আলোচিত চলচ্চিত্র দ্য কমিটমেন্টসেও অভিনয় করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাবলিনের পশ্চিমে লুকানের লোয়ার রোডে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বরে বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার কিছু আগে খবর দেওয়া হয়। অন্য কোনো যানের সঙ্গে সংঘর্ষ নয়, বরং বাইকটি এককভাবেই দুর্ঘটনাকবলিত হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্ধান করছে পুলিশ।
২০০৮ সালে ‘ফলিং স্লোলি’ গানটির জন্য সেরা মৌলিক গানের অস্কার জেতেন হ্যানসার্ড। ২০০৭ সালের স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স’-এর জন্য গানটি তিনি চেক সংগীতশিল্পী মার্কেটা ইর্গলোভার সঙ্গে লিখেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে দুজন সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয়ও করেন তাঁরা। পরে তাঁরা ‘দ্য সোয়েল সিজন’ নামে সংগীতজুটি গড়ে তোলেন।
১৯৭০ সালে ডাবলিনে জন্ম নেওয়া হ্যানসার্ড কৈশোরে শহরের রাস্তায় গান গেয়ে জীবিকা শুরু করেন। ১৯৯০ সালে তিনি দ্য ফ্রেমস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালে অ্যালান পার্কারের দ্য কমিটমেন্টস চলচ্চিত্রে আউটস্প্যান ফস্টার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় পরিচিতি পান। ২০০২ সালে আইরিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিইর প্রশংসিত সংগীত অনুষ্ঠান ‘আদার ভয়েসেস’-এর প্রথম উপস্থাপকও ছিলেন তিনি।
একক শিল্পী হিসেবেও হ্যানসার্ডের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর অ্যালবাম ‘ডিডন্ট হি র্যাম্বল’ ২০১৬ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে সেরা ফোক অ্যালবাম বিভাগে মনোনয়ন পায়। ‘ওয়ান্স’ অবলম্বনে নির্মিত ব্রডওয়ে মিউজিক্যালও পরে আটটি টনি অ্যাওয়ার্ড জেতে।
সংগীতের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন হ্যানসার্ড। ২০১০ সালে তিনি ডাবলিনের বার্ষিক ক্রিসমাস ইভ চ্যারিটি বাস্কিং আয়োজন শুরু করেন। গৃহহীন মানুষের সহায়তায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বোনো, সিনেড ও’কনর, ইমেল্ডা মে, শেন ম্যাকগোয়ানসহ বহু খ্যাতিমান শিল্পী অংশ নেন।
ডাবলিন সাইমন কমিউনিটি তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, হ্যানসার্ড শুধু প্রতিভাবান গীতিকার ও গল্পকারই ছিলেন না, গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্যও তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ কণ্ঠ।
হ্যানসার্ডের বন্ধু শিল্পী কলিন ডেভিডসন তাঁকে ‘অসাধারণ দয়ালু, বিশ্বস্ত ও উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন ও প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলিও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে হ্যানসার্ড ছিলেন তিন বছর বয়সী এক পুত্রসন্তানের বাবা। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু, সহশিল্পী ও অগণিত ভক্তের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।