ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মিত্রদেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরানের শাসকগোষ্ঠী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে বলেছেন। তিনি জানান, তাঁর ‘দৃঢ় বিশ্বাস’—এই সংকট প্রশমনে দুই দেশকে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য দুই দেশের বিশেষ সম্পর্কের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, এর আগে স্টারমার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে, খবরে প্রকাশিত হয়েছিল ট্রাম্প স্টারমারকে ‘লুজার বা পরাজিত ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এমন প্রতিবেদন অস্বীকার করেননি। ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, স্টারমার ‘উইনস্টন চার্চিল নন।’ ইরান সংকট সামলানোর ক্ষেত্রে স্টারমারের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন, অঞ্চলে মিত্রদেশ ও ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোকে সমর্থন দিতে তিনি যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি।
এর আগে গত রোববার ইরানি ড্রোন সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি আরএএফ আক্রোতিরিতে আঘাত হানে। তবে সেখানে সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে স্টারমারের সময় লাগে ৭২ ঘণ্টা। তিনি পরে টাইপ-৪৫ ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জাহাজটি বর্তমানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজের মধ্যে থাকায় সেটি দ্বীপটিতে পৌঁছাতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। ফ্রান্স ও স্পেন যে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে, সেগুলোর অনেক পরেই এটি সেখানে পৌঁছাবে।
বৃহস্পতিবারও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের ডজনখানেক শহরে বোমা হামলা চালিয়েছে। একই সময় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টারগুলোতে হামলা চালায়। ক্রমবর্ধমান সমালোচনা সামাল দিতে ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার ঘোষণা দেন, ব্রিটেন কাতারে অতিরিক্ত চারটি টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাবে। এর মাধ্যমে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, ‘বহুদিন ধরেই ব্রিটেনের অবস্থান হলো—অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ হলো ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। যেখানে তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করবে।’
স্টারমার আরও বলেন, ‘এই কারণেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক হামলায় অংশ নেবে না। সিদ্ধান্তটি ছিল পরিকল্পিত, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি এখনো সেই সিদ্ধান্তের পক্ষেই আছি।’ এর আগে ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এখন আলোচনার জন্য ‘খুব দেরি হয়ে গেছে।’