স্কটল্যান্ডে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক সাবমেরিন ঘাঁটিতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে এক ইরানি নাগরিক ও এক রোমানীয় নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো এই দুজনকে ইরানি ‘গুপ্তচর’ হিসেবে সন্দেহ করছে।
স্কটল্যান্ডের ‘এইচএম নেভাল বে ক্লাইড’ নামক নৌঘাঁটি থেকে গত বৃহস্পতিবার তাঁদের আটক করা হয়। এই ঘাঁটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানেই যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সাবমেরিন বহর রাখা হয়। আটক ইরানি পুরুষের বয়স ৩৪ এবং রোমানীয় নারীর বয়স ৩১ বছর বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে ঘাঁটির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টার সময় তাঁদের ধরা হয়।’ ২৩ মার্চ তাঁদের ডাম্বারটন শেরিফ আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মাঝেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটল। সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ছোড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রুখে দিয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনী। যুক্তরাজ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করতে অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে গোপনীয় সামরিক স্থাপনায় ইরানি নাগরিকের প্রবেশের চেষ্টা ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের ‘গুপ্তচর’ বলেনি, তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা সম্ভবত ওই ঘাঁটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সাবমেরিনগুলোর গতিবিধি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তেহরানের নজরদারি বৃদ্ধির আশঙ্কা আগে থেকেই করা হচ্ছিল।
বর্তমানে ওই নৌঘাঁটির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং আটকদের জেরা করে তাদের মূল উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছে ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশ।