হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

কিয়েভে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া, আজও নিহত ৯

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় আরও ৯ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: এএফপি

রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় আজ মঙ্গলবার ৯ জন নিহত এবং প্রায় ডজন খানেকের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। কিয়েভে রুশ হামলার এটি টানা ষষ্ঠ দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ মহাদেশে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানে সমাধান খুঁজতে যখন প্রচেষ্টা চলছে, তখন ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশেই হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়।

ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানিয়েছে, কিয়েভে আটজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে। কিয়েভ অঞ্চলের বরিসপিল শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এক আবাসিক ভবন এবং একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো।

কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার প্রতিদিনের হামলায় লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের বেশিরভাগ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও সরবরাহ-লজিস্টিক অবকাঠামোতেও হামলা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে চালানো এক হামলার কারণে দানিউব নদীর তীরে রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ওরলিভকা সীমান্ত পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য।

অন্যদিকে রাশিয়াতেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনে এক ড্রোন হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগার বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায়। একই সময়ে মস্কোতে ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছিল। মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সামারা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে। সেখানে একটি বিমান হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নর টেলিগ্রামে জানিয়েছেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনগুলো রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

শান্তি প্রচেষ্টা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একটি ‘বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে তাদের ইউক্রেন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার জন্য দুই পক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, মানবতার স্বার্থে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। এর জবাবে ক্রেমলিনের নেতা বলেন, মস্কো ‘এই পথে এগিয়ে যাচ্ছে’।

এই সংঘাত ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশকে, বিশেষ করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা বাড়তে থাকার পর এই পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশসীমা নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে লাটভিয়ায় অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান সক্রিয় করা হয়। একই সময়ে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় বিমান ও সামুদ্রিক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী পৃথকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ সময় রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ড্রোন উড়ছিল। উস্ত-লুগা বন্দর এই লেনিনগ্রাদ অঞ্চলেই অবস্থিত। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাহকনা মঙ্গলবার দেশটির আকাশপথে হামলার হুমকির সতর্কতাও জারি করেছিলেন। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ন্যাটোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ন্যাটো ‘দ্রুত এবং ঠিক যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল সেভাবেই’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠিয়েছে।