হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

চুরি গেল রেনোয়ার ১২৩ কোটি টাকা মূল্যের দুটি চিত্রকর্ম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রেনোয়ার চুরি যাওয়া চিত্রকর্ম ‘মাদাম কলোনা রোমানো’ এবং ‘ইয়াং উইমেন অ্যাট দ্য ওয়েল’। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

ফ্রান্সের ফ্রেঞ্চ রিভেরার একটি জাদুঘর থেকে বিখ্যাত ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পী পিয়েরে-অগুস্ত রেনোয়ার চারটি চিত্রকর্ম চুরি করেছে দুই চোর। তবে পালানোর সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তাঁরা দুটি চিত্রকর্ম ফেলে যায়। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ফ্রান্সের ক্যাগন-সুর-মের শহরের রেনোয়া জাদুঘরে এই ঘটনা ঘটে।

শহরের মেয়র ব্রায়ান মাসোঁ জানান, সকাল ৬টার কিছু আগে বাগানের বেড়া কেটে তৈরি করা একটি গর্ত দিয়ে দুই চোর জাদুঘরে ঢোকে। এ সময় অ্যালার্ম বেজে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের ধাওয়া করে। পরে চোরেরা দুটি চিত্রকর্ম বাগানে ফেলে পালিয়ে যায়।

চুরি যাওয়া দুটি চিত্রকর্ম হলো ‘মাদাম কলোনা রোমানো’ এবং ‘ইয়াং ওম্যান অ্যাট দ্য ওয়েল’। স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিত্রকর্ম দুটি প্যারিসের বিখ্যাত অর্সে জাদুঘরের মালিকানাধীন এবং রেনোয়া জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য ধার দেওয়া হয়েছিল।

মেয়র মাসোঁর হিসাবে চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মূল্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২৩ কোটি টাকা)। তবে তিনি বলেন, ‘এগুলো রেনোয়ার কাজ—মূল্য দিয়ে বিচার করা যায় না। এগুলো এভাবে বিক্রি করাও সম্ভব নয়।’

ঘটনাটিকে ক্যাগন-সুর-মেরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, রেনোয়া জাদুঘরে হামলা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা।

জাদুঘরটি ১৯৬০ সালে রেনোয়ার নিজস্ব বাসভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিস শহরের কাছে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই বাড়িতেই জীবনের শেষ সময় কাটিয়েছিলেন শিল্পী এবং ১৯১৯ সালে এখানেই তিনি মারা যান। বর্তমানে জাদুঘরে রেনোয়ার ১৩টি চিত্রকর্ম ছাড়াও প্রায় ৪০টি ভাস্কর্য, আলোকচিত্র ও আসবাবপত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্পকর্ম চুরির ঘটনা আরও সহিংস হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ইউরোপোল। তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘবদ্ধ বিশেষজ্ঞ চক্রের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগ করা সুযোগসন্ধানীরাও এসব অপরাধে জড়াচ্ছে।

গত বছর প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনায় ৮৮ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের গয়না চুরি হয়। ইউরোপোলের মতে, ২০২৪ সাল থেকেই ইউরোপে জাদুঘরে হামলায় কুঠার, হাতুড়ি এমনকি বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।