হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

পোলিশ সীমান্তে ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ছবি: বিবিসি

ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রুশ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার কিছুক্ষণ আগেই একই রেলপথ দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ফিরছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিবিসি জানায়, পশ্চিম ইউক্রেনের একটি রেল অবকাঠামোয় হামলার কথা স্বীকার করেছে রাশিয়া। রুশ হামলায় ট্রেনটির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বরিস জনসন ও ইউরোপের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টা একই রেলপথ ব্যবহার করে ফিরছিলেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলও ছিলেন।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জনসন বলেন, ‘পোলিশ সীমান্তে একটি স্থির ইউক্রেনীয় লোকোমোটিভ উড়িয়ে দিতে পুতিনকে কী ধরনের বিকৃত যুক্তি পরিচালিত করেছে, আমি জানি না।’ ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা তাদের প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কবে দেব?’

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, একটি রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের রেল যোগাযোগব্যবস্থা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। ট্রেন, রেল ডিপো ও অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোয় একাধিক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

চলতি মাসের শুরুতেই কিয়েভে একটি রেল ডিপোতে হামলায় রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি ইউক্রজালিজনিতসিয়ার ছয় কর্মী নিহত হন। এর আগে চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইউক্রেনে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী ট্রেনকর্মী নিহত হন।

গত জানুয়ারিতেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওই হামলায় পাঁচজন নিহত হন। ঘটনাটিকে তিনি ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের বিশাল রেল নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে লাখ লাখ ইউক্রেনীয়র জন্য রেলপথই এখন দেশের ভেতরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।

সীমান্তের এত কাছে রেলপথে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের পরিবহন অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও দেশটির জন্য আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।