ইউক্রেনে আজ বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজধানী কিয়েভের একজনও রয়েছেন। হামলা ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেশী পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই হামলা এমন সময় হলো—যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরছেন। সফরের সময় তিনি বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো টেলিগ্রামে জানান, শহরের কয়েকটি আবাসিক নয় এমন স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাজধানীতে একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও পোলতাভা অঞ্চলে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
জেলেনস্কির নিজ শহর মধ্য ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরেও হামলায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৫ ও ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। শহরের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ওলেকজান্দর ভিলকুল বলেছেন, রাশিয়ার একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করেছে। এতে আরও আটজন আহত হয়েছেন। ভিলকুল টেলিগ্রামে বলেন, ‘একটি অন্ধকার রাত।’ তিনি জানান, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চল থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি বড় পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে, পোল্যান্ডের কাছাকাছি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা তৎপর ছিলেন। এর আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষের নিরাপত্তা মিত্র দেশগুলো কতটা কার্যকরভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে প্রস্তুত, তার ওপর নির্ভর করছে।
জেলেনস্কি টেলিগ্রামে লিখেছিলেন, ‘আমাদের অংশীদাররা কী ঘটছে তা পুরোপুরি বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবন রক্ষা সরাসরি তাদের প্রস্তুতি ও ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।’
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা রাজধানী কিয়েভ থেকে লভিভ ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়েছে। রাশিয়া আরও দাবি করেছে, তিনটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ডও রাশিয়ার বিমান হামলার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানায়।
ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী পোল্যান্ডের লুবলিন অঞ্চলের পুলিশও এক্সে জানিয়েছে, বিলগোরাই কাউন্টিতে বিকট শব্দ শোনার খবর পাওয়া যায়। পরে একটি মাঠে একটি গর্ত এবং কোনো একটি অজ্ঞাত বস্তুর ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।