যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। ইউক্রেনের স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তির দিনে তাঁর এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিবিসি জানিয়েছে, সফরকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন বার্নহাম। পাশাপাশি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া ৩৫টির বেশি দেশের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রথম বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে ইউক্রেনকে নিজ দেশে ব্রিটিশ ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ধরনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হবে। এ জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়ে একটি চুক্তি হবে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি এমবিডিএকে ফরাসি ‘স্ক্যাল্প’ ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাজ্য-সংশ্লিষ্ট উপাদান সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে। স্ক্যাল্প মূলত স্টর্ম শ্যাডোর ফরাসি সংস্করণ।
প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের ও ৫ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৫০ মাইল বা ২৪১ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত স্থির লক্ষ্যবস্তুতে দিন বা রাত—সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে ইউক্রেনের নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন হামলা সক্ষমতার তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কম। তারপরও পশ্চিমা মিত্রদের উন্নত অস্ত্রপ্রযুক্তি ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম ইউক্রেনীয় জনগণকে সরাসরি আশ্বস্ত করতে চান, যত দিন প্রয়োজন, তত দিন ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করবেন।
ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার আশায় রয়েছে। দেশটির জন্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখন অন্যতম জরুরি প্রয়োজন।
বার্নহাম ও জেলেনস্কির মধ্যে প্রায় এক মাস আগে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে প্রথম বৈঠক হয়েছিল। কিয়েভ সফরে সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।