নতুন বছরের শুরুতেই এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির সাক্ষী থাকল সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত স্কি রিসোর্ট ক্রানস-মন্টানা। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রথম প্রহরে একটি পানশালায় (বার) শ্যাম্পেন বোতলের ওপর লাগানো ছোট আতশবাজি বা ‘স্পার্কলার’ থেকে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১৯ জন, যাঁদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভ্যালাইস অঞ্চলের অ্যাটর্নি জেনারেল বিয়াত্রিস পিলউড শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো জ্বলন্ত স্পার্কলারগুলো সিলিংয়ের খুব কাছে চলে আসায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ‘লে কনস্টেলেশন’ নামক ওই নাইটক্লাবে সেই সময় জনসমাগম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ভিড়ের মধ্যে উঁচিয়ে ধরা শ্যাম্পেনের বোতল থেকে আগুনের ফুলকি ছিটকে সিলিংয়ে থাকা দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের মূল বিষয়গুলো হলো পানশালার ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা, অনুমোদিত দর্শক ধারণক্ষমতা এবং সিলিংয়ে ব্যবহৃত ফোমের গুণমান। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। যদিও পানশালার মালিকপক্ষের দাবি, গত ১০ বছরে কর্তৃপক্ষ তিনবার পরিদর্শন করেও কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডরিক গিসলার জানিয়েছেন, নিহত ৪০ জনের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে। আহত ১১৯ জনের মধ্যে ১১৩ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে ৭১ জন সুইজারল্যান্ডের, ১৪ জন ফ্রান্সের এবং ১১ জন ইতালির নাগরিক। আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলার তাহিরিস দস সান্তোসও রয়েছেন, তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে জার্মানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রায় ৫০ জন দগ্ধ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন বার্ন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
এখনো অনেকে নিখোঁজ থাকায় তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। ১৬ বছর বয়সী ইতালীয় কিশোর অ্যাচিল বারোসির সন্ধানে তার পরিবার ব্যাকুল। তার খালা ফ্রান্সেসকা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা জানি না সে বেঁচে আছে কি না।’ নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ট্রিস্টান ফিশার জানান, তাঁর ১৭ বছর বয়সী ভাই জানলার কাচ ভেঙে বেশ কয়েকজনকে জ্বলন্ত ঘর থেকে টেনে বের করেছে। অন্যদিকে লি জেহন্ডার নামক এক তরুণী জানান, চিৎকার শুনে তাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে যান, দগ্ধ মানুষদের আর্তনাদ ছিল অসহনীয়।
৯ জানুয়ারি ক্রানস-মন্টানায় একটি বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিন গোটা দেশ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে।