রাশিয়ার পক্ষ থেকে ‘পরিণতি ভোগের’ হুমকি দেওয়া হলেও ইউক্রেনকে শতভাগ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ব্রিটিশ নির্মিত ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করার পর মস্কোর পক্ষ থেকে ওই হুমকি আসে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উলভারহ্যাম্পটন সফরের সময় রাশিয়ার হুমকি সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্নহ্যাম জানান, ইউক্রেনের পাশে থাকার ব্রিটিশ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে চলা ‘অবৈধ যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে পূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। এই অবস্থান আগের ব্রিটিশ সরকারগুলোরও ছিল এবং তাঁর সরকারও তা অব্যাহত রাখবে।
এর আগে সোমবার যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, ব্রিটেন ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে। এক বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে, সংঘাতে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা যত গভীর হবে, দেশটিকে তত বেশি ‘মূল্য’ দিতে হবে। রুশ দূতাবাস ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে ব্যবহার করে রাশিয়ার ওপর সর্বোচ্চ ক্ষতি চাপানোর অভিযোগও তোলে।
তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পাশে থাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। ইউক্রেনের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার গভীরে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ব্রিটিশ নির্মিত অস্ত্রের মধ্যে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছে দেশটি। পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা, বন্দর, গুদাম ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করছে কিয়েভ।
স্বাধীন সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাকলেডের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ভূখণ্ডে জানুয়ারির তুলনায় জুলাইয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির এই কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা এবং দেশটির সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের বাস্তবতা অনুভব করানো।
অন্যদিকে রাশিয়াও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এক দিনে ১৯টি রুশ অঞ্চলের পাশাপাশি কৃষ্ণসাগর, আজভ সাগর ও ক্রিমিয়ায় ৫৯৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের পেচেনিহি গ্রামে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০ জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। হামলায় বহু বেসরকারি ভবন, একটি ক্যাফে, ডাকঘর, দোকান ও কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও হামলা ও বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।