হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

ট্রাম্পের কাছে একটি উপহার পাঠালেন পুতিন—বিনিময়ে কী চান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার কোনো বন্দী বিনিময় ছাড়াই এক মার্কিন নাগরিককে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। চার বছরের বেশি সময় বন্দী থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সাধারণত রাশিয়া কোনো মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিলে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও কোনো রুশ নাগরিককে মুক্তি দেয়। ফলে গিলম্যানের একতরফা মুক্তি বেশ ব্যতিক্রমী ঘটনা।

রয়টার্সের উদ্ধৃত এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গিলম্যানের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়েছিল এবং তিনি মৃত্যুর কাছাকাছি ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে পুতিন তাঁর মুক্তিকে ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে অনুমোদন করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এর পেছনে মানবিকতার পাশাপাশি বড় কূটনৈতিক হিসাবও রয়েছে।

বিনিময়ে কিছু না নিয়ে মস্কো কোনো বিদেশি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে—এমনটি খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে। তাই গিলম্যানের মুক্তিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া যখন ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করা পুতিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বেড়েছে। দেশটির বিভিন্ন তেল শোধনাগারে বারবার হামলা অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে এবং রুশ সামরিক ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে আনছে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

এর মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সম্পর্কও আগের তুলনায় ঘনিষ্ঠ হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে তাঁদের বৈঠক মস্কোর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অথচ এক বছর আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তখন আলাস্কায় ট্রাম্প পুতিনকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছিলেন এবং মনে হচ্ছিল, রাশিয়ার শর্ত মেনে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সমাধান আসতে পারে।

সাবেক মার্কিন মেরিন রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত

এই বাস্তবতায় গিলম্যানের মুক্তি শুধু মানবিক পদক্ষেপ নয়, বরং ট্রাম্পের কাছে পুতিনের একটি কূটনৈতিক ‘উপহার’ বলেই মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্রেমলিন ট্রাম্পকে বোঝাতে চাইছে—পুতিন এখনো এমন একজন অংশীদার, যার সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।

তবে এই উপহারের বিনিময়ে মস্কো কী চায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, রাশিয়া এর বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো না কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে।