জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এর জন্য ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে দায়ী করছেন অনেকে। এই অবস্থায় সিরস্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। ফেদোরভকে সরিয়ে দিতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সিদ্ধান্ত ঘিরে সৃষ্ট সংকটের মধ্যেই সেনাপ্রধানকে বরখাস্তের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য দিমিত্রো কোজিয়াতিনস্কি বলেছেন, ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে জেনারেল সিরস্কিকে সরিয়ে ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা না হলে ‘অনির্দিষ্টকালের জাতীয় আন্দোলন’ শুরু হবে। তবে এর আগে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ইউক্রেনজুড়ে এখন প্রেসিডেন্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে।
গত সপ্তাহজুড়ে জেলেনস্কি মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেছেন। জেলেনস্কির কার্যালয়ের প্রধান কিরিলো বুদানভ ইউক্রেনীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন নিয়ে মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ তৈরি হয়েছে এবং সরকারের কাছে জনগণের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিভেদ রাশিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে লড়াই শত্রুকে সুবিধা দেবে।’
এর মধ্যেই দীর্ঘদিন নীরব থাকা ৬০ বছর বয়সী জেনারেল সিরস্কি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন। সামরিকবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘মিলিটারনি’-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি ফেদোরভের সঙ্গে বিরোধের কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি তাঁদের সম্পর্ককে কেবল পেশাগত সম্পর্ক হিসেবেই দেখেছেন। কোনোভাবে ফেদোরভকে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত বলেও জানান।
সিরস্কি মত দেন—সামরিক চুক্তি, অস্ত্র কেনাকাটা ও সেনা সমাবেশের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল। স্লোগান দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, স্লোগান নয়, বাস্তব কাজই যুদ্ধে জয় আনে।
তবে ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ ফেদোরভের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের ধারণার প্রতি বেশি আস্থাশীল। অনেকের মতে, ফেদোরভের নেতৃত্বে ড্রোন ও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশলে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ছিল।
সিরস্কি অবশ্য ড্রোন ব্যবহারে অনীহার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর নেতৃত্বেই ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীতে পৃথক মানববিহীন যোদ্ধা ব্যবস্থা ইউনিট গড়ে উঠেছে। তবে শুধু ড্রোন দিয়ে লাখো সদস্যের সেনাবাহিনী পরিচালনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সিরস্কিকে সরিয়ে দেওয়া হলে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন অপেক্ষাকৃত তরুণ সামরিক কর্মকর্তার নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মিখাইলো দ্রাপাতি, আন্দ্রি বিলেতস্কি, ওলেহ আপোস্তল ও ইহোর ওবোলেনস্কি। এ ছাড়া ৩৫ বছর বয়সী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেনিস প্রকোপেঙ্কোর নামও আলোচনায় রয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কৌশলে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে তিনি এখনো কাজ করছেন। শরতে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় আবারও হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে তিনি বলেছেন, আগস্টে ইউক্রেনকে যতটা সম্ভব শক্তিশালী অবস্থানে যেতে হবে। এখন বিক্ষোভ সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও দেশটির ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো ইউক্রেন।