হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

২৬ বছর পর অবৈধ সন্তানকে স্বীকৃতি দিলেন বেলজিয়ামের রাজপুত্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স লরাঁ ও তাঁর স্বীকৃতি দেওয়া পুত্র ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভে। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

দীর্ঘ ২৬ বছর পর নিজের অবৈধ সন্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স লরাঁ। এর ফলে ২৬ বছর বয়সী ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভে এখন আইনগতভাবে রাজপুত্রের মর্যাদা পেয়েছেন এবং বাবার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তার সৎভাই-বোনদের সমান উত্তরাধিকারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রিন্স লরাঁ বেলজিয়ামের বর্তমান রাজা ফিলিপের ভাই। তিনি ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। এর আগে, ২০০০ সালের আগস্টে সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী আইরিস ভান্দেনকার্কহোভে (শোবিজে ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেন নামে পরিচিত) এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ওই সময় থেকেই বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যমে শিশুটির বাবা হিসেবে প্রিন্স লরাঁর নাম উঠে আসছিল।

লরাঁ ও ভ্যান ওয়ান্টেনের পরিচয় হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোতে। পরে তাঁদের সম্পর্ক প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সন্তানটির নাম ‘ক্লেমঁ’ রাখাকে অনেকে লরাঁর তেরভুরেনের সরকারি বাসভবন ‘ভিলা ক্লেমন্তিন’-এর প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সম্প্রতি বেসামরিক নিবন্ধন দপ্তরে নিজের পিতৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রিন্স লরাঁ। গত বছর একটি বেলজিয়ান টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্রে ক্লেমঁ নিজেও তার বংশপরিচয় নিয়ে কথা বলেন এবং লরাঁকে তার জৈবিক বাবা হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে লরাঁও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে বাবা ও ছেলে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে ‘খোলামেলা ও সৎ’ আলোচনা করে আসছিলেন।

তবে রাজপরিবারের সদস্য হলেও ক্লেমঁ রাজার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন না। ২০১৩ সালের রাজকীয় ভাতা সংস্কারের পর সরকারি অর্থায়ন মূলত রাজা ও সরাসরি সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে ক্লেমঁ কোনো রাষ্ট্রীয় ভাতা, সরকারি দায়িত্ব বা সিংহাসনের অধিকার পাবেন না।

বেলজিয়ামের রাজপরিবারে এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালে শিল্পী প্রিন্সেস ডেলফিন দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াইয়ের পর রাজা দ্বিতীয় আলবার্টের কন্যা হিসেবে স্বীকৃতি পান। তাঁর ক্ষেত্রেও ডিএনএ পরীক্ষা আদালতের নির্দেশে সম্পন্ন হয়েছিল।

প্রিন্স লরাঁ নিজেও বেলজিয়ামের রাজপরিবারের অন্যতম বিতর্কিত সদস্য হিসেবে পরিচিত। অনুমতি ছাড়া কূটনৈতিক সফর, সামরিক পোশাকে চীনা দূতাবাসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত—বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনায় তিনি আলোচনায় এসেছেন। এমনকি একবার জাতীয় সংগীত চলাকালীন ফোনে কথা বলেও সমালোচিত হন।

তবে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে ২৬ বছর পর ক্লেমঁর পিতৃত্বের স্বীকৃতি এখন বেলজিয়ামের রাজপরিবারের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।