হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

শিক্ষার চেয়ে নিরাপত্তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত যুক্তরাজ্যের ইহুদি স্কুলগুলো

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: বিবিসি

ইংল্যান্ডের কিছু ইহুদি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার চেয়ে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়েই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ইহুদি-বিরোধী বিদ্বেষ বা অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কমিশন করা একটি স্বাধীন পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

পর্যালোচনাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক অফস্টেড প্রধান পরিদর্শক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্যার ডেভিড বেল। শরৎকালে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার কথা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি জানান, ইহুদি ধর্মাবলম্বী স্কুলগুলোর বহু প্রধানের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। কারণ নিরাপত্তাই তাদের প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। বেল বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে, শিক্ষা দ্বিতীয় স্থানে চলে যাচ্ছে।’

একজন প্রধান শিক্ষক জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা এতটাই বড় অগ্রাধিকার পেয়েছে যে, কোনো কোনো সপ্তাহে তাঁর প্রায় ৯০ শতাংশ সময় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কাজে ব্যয় হয়েছে। ১৩ বছর ধরে একটি ইহুদি স্কুলের নেতৃত্ব দেওয়া আরেকজন বলেন, সন্তানদের নিরাপদ রাখতে গভর্নর, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রতিদিনের নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত নিতে তাঁকে আগে কখনো এত সময় দিতে হয়নি। এর ফলে স্কুলের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও অন্যান্য শিক্ষাগত অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করার সময় কমে গেছে।

ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্টের (সিএসটি) তথ্যও পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির স্কুলগুলোতে ১৭৮টি ইহুদি-বিরোধী ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ১১২ টির তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেশি। এটি বছরের প্রথম ছয় মাসে স্কুলে অ্যান্টিসেমিটিজমের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

পর্যালোচনায় অংশ নেওয়া চেশায়ারের শিক্ষার্থী জোনাথন ফ্রিশার জানান, মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর ২০২০ সাল থেকে তিনি ইহুদি-বিরোধী নিপীড়নের শিকার হন। তবে তাঁর স্কুলে আধুনিক অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে একটি মাত্র পাঠ নেওয়ার পরই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মনোভাব বদলে যায় এবং অনেকে তাঁর কাছে ক্ষমাও চায়।

এদিকে ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল বলেছেন, অ্যান্টিসেমিটিজমের কোনো স্থান সমাজে নেই, শিক্ষা ব্যবস্থাতেও নয়। ইহুদি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যেন কখনো বিদ্বেষ ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্কুল ও কলেজকে প্রস্তুত থাকতে হবে।