ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে (সাবেক ডিউক অব ইয়র্ক) ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে চীন সফরের সময় এক মডেলের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়া এবং সেই সফরের ছবি কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কাছে পাঠানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। এ অবস্থায় ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত হিসেবে অ্যান্ড্রুর দায়িত্ব পালনের সময়কাল নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।
প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, অ্যান্ড্রুর ঘনিষ্ঠ সহকারী ডেভিড স্টার্ন বেইজিংয়ে এক চীনা অভিনেত্রী ও মডেল মিয়া মুকির সঙ্গে অ্যান্ড্রুর নৈশভোজের ছবি এপস্টেইনকে পাঠিয়েছিলেন। এক ইমেইলে তিনি লেখেন, ‘রোববার বেইজিংয়ে আমরা এই পি-এর সঙ্গে ডিনার করছি।’ এখানে ‘পি’ শব্দটি তরুণীদের প্রতি অবমাননাকর ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা যায়।
আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু এক তরুণীর সঙ্গে বাঁশের ভেলায় বসে আছেন—সম্ভবত তিনি ছবি তোলার বিষয়টি টেরই পাননি।
ইমেইলগুলোর তথ্য বলছে, অ্যান্ড্রুর কাছ থেকে স্টার্নকে পাঠানো বার্তাগুলো নিয়মিতভাবে এপস্টেইনের কাছে ফরওয়ার্ড করা হতো। স্টার্ন তরুণীদের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সাক্ষাতের ছবিও পাঠাতেন।
যুক্তরাজ্যের থমাস ভ্যালি পুলিশ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফগানিস্তান সফরের প্রতিবেদনও এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু। সরকারি দায়িত্বে থেকে এসব তথ্য প্রদান কোনো অনিয়ম বা অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, বাণিজ্য দূত হিসেবে অ্যান্ড্রুর দায়িত্বকাল সম্পর্কিত নথি প্রকাশে একাধিক অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এসব তথ্য প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শারীরিক বা মানসিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
ফাঁস হওয়া নথিতে আরও দেখা যায়—রাষ্ট্রায়ত্ত সহায়তায় পুনর্গঠিত রয়েল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড (আরবিএস) এবং গাড়িনির্মাতা অ্যাস্টন মার্টিন সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য এক বিনিয়োগ ব্যাংকার টেরেন্স অ্যালেনের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন অ্যান্ড্রু। অ্যালেন ‘ইনসাইড ইনফরমেশন’ চেয়ে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। একই ইমেইলে তিনি অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারাহ ফার্গুসনের প্রায় ৬ মিলিয়ন পাউন্ড ঋণ সামাল দিতে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, স্টার্ন ২০০৯–২০১৮ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। জার্মান নাগরিক স্টার্ন লন্ডনের সোয়াস ইউনিভার্সিটিতে চীনা আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি চীন ও লন্ডনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি অ্যান্ড্রুর একটি উদ্যোগের পরিচালক ছিলেন এবং সরকারি অর্থায়নে বিভিন্ন বাণিজ্য মিশনে তাঁর সঙ্গে সফর করেন। অভিযোগ আছে, অ্যান্ড্রুর সফরের সময়সূচিও এপস্টেইনের সঙ্গে আগেভাগেই শেয়ার করতেন স্টার্ন, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
স্টার্ন নিজেকে এপস্টেইনের কাছে ‘মাই চায়না কন্টাক্ট’ হিসেবে পরিচয় দিতেন; অন্যদিকে এক ইমেইলে এপস্টেইনকে ‘বস’ বলেও উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের দাবি করলেও, নথি ইঙ্গিত দেয়—স্টার্ন দুজনের মধ্যে গোপন যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। এই ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কই এখন নতুন করে আলোচনা ও তদন্তের কেন্দ্রে।