হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

এবার ইউরোপীয় জাহাজ জব্দের হুমকি পুতিনের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি

রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে উত্তেজনা এবার নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহন থেকে থেকে জব্দ করা তেল ও পণ্য বিক্রির ইউরোপীয় পরিকল্পনার পাল্টা জবাব হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর জাহাজ জব্দ করার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মস্কো প্রয়োজনে ‘যেকোনো জায়গায়’ পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। শাখালিনের কাছে রুশ নৌমহড়ার মধ্যেই পুতিনের এই হুঁশিয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় রাশিয়া-ইউরোপ সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ বুধবার ইউরোপীয় দেশগুলোর জাহাজ জব্দ করার হুমকি দিয়েছেন। রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিটের’ জাহাজ থেকে জব্দ করা পণ্য বিক্রি করার ইউরোপীয় পরিকল্পনার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এসব জাহাজ জব্দ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়ার তেল পরিবহনের ওপর আরোপিত ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তেল বহনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় কোম্পানি রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে। গত মাসে পাস হওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এসব জাহাজ থেকে জব্দ করা তেল বা অন্য যেকোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবে।

এ ধরনের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ মস্কো। পুতিন এর আগে এই কার্যক্রমকে ‘জলদস্যুতা ও দস্যুবৃত্তি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে নৌবাহিনীর মহড়া তদারক করার সময় এই নেতা বলেন, ‘আমরা একই ধরনের জবাব দিতে বাধ্য হব।’ তিনি আরও বলেন, মস্কো ‘যেখানেই আমরা নিজেদের প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত মনে করব, সেখানেই’ ব্যবস্থা নেবে, অর্থাৎ ‘যেকোনো জায়গায়।’

আগস্টের শুরুতে বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা সুইডিশ আদালতের নথি থেকে জানা যায়, দখল করা একটি রুশ জাহাজ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল থেকে শস্য পরিবহন করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং স্টকহোম জাহাজটি ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করবে।

পুতিন রুশ নৌবাহিনীর ক্রুজার ভারিয়াগে অবস্থান করে এসব মন্তব্য করেন। তখন রাশিয়ার নৌবাহিনী শাখালিন দ্বীপের কাছে মহড়া চালাচ্ছিল। এই নৌমহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। ওই মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের একটি পরিস্থিতি অনুকরণ করে সামরিক প্রস্তুতি যাচাই করা হবে।

এদিকে অঞ্চলটিতে উত্তেজনাও তীব্র রয়েছে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করে আসছে, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া তাদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে।