ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি দেশটির প্রধান শান্তি আলোচক রুস্তেম উমেরভকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ে চলমান রদবদলের ধারাবাহিকতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এল। এর আগে জুলাইয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা ইউক্রেনের জনগণের একাংশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, উমেরভ এর আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে, ইউক্রেনের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কোকে নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান করা হয়েছে।
জেলেনস্কি গত জুলাইয়ে আকস্মিকভাবে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পর থেকে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর এক রদবদল করছেন। ওই সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জনমতের চাপে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ওলেক্সান্দর সিরস্কিকেও পরিবর্তন করতে বাধ্য হন তিনি।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ ছিলেন উচ্চপ্রযুক্তির ড্রোন যুদ্ধকৌশলের অন্যতম প্রবক্তা। তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ইউক্রেনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও করেন।
জেলেনস্কির এই ধারাবাহিক রদবদল কেন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সোমবারের সর্বশেষ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট খুব বেশি ব্যাখ্যা দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের পদে ক্লিমেঙ্কোকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে তাঁকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর মধ্যে রাখা হলো। এর আগে তাঁকে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
জেলেনস্কির সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন, তিনি একই ছোট পরিসরের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিয়োগ দিচ্ছেন। তবে জেলেনস্কির দাবি, জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই রদবদলের মূল লক্ষ্য হলো আসন্ন কঠিন শীত মোকাবিলায় ইউক্রেনকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা। শীতে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রুস্তেম উমেরভ ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন দফার শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনীয় দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত এসব আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো বাস্তব অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।
এ ছাড়া ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত ড্রোন প্রযুক্তি মিত্র দেশগুলোর কাছে তুলে ধরতে এবং এই সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনাতেও উমেরভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখার দায়িত্বও তাঁর ওপর থাকায় ইউক্রেনের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।