শুক্রবারের ঘূর্ণিঝড় ইউনিস ইউরোপের অন্তত আটজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই ঝড়ের কারণে ব্রিটেনের লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইউনিস পশ্চিম ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট, ট্রেন ও ফেরি চলাচল ব্যাহত করেছে। কার্যত পুরো ইউরোপকে থামিয়ে দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইউনিস।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস রেড অ্যালার্ট জারি করার পর পুরো লন্ডন ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষজন বুঝে যায় যে এখানে থাকাটা জীবনের জন্য বিপজ্জনক। পুলিশ জানায়, এত সতর্কতার পরেও লন্ডনের একটি রাস্তায় একটি গাড়ির ওপর গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়, যেখানে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি সম্ভবত গাড়ি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছিলেন।
এদিকে, মারসিসাইড পুলিশ জানিয়েছে, ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে একটি গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা গেছেন।
ব্রিটেনের বাইরে গাছ পড়ে নেদারল্যান্ডসে তিনজন এবং দক্ষিণ-পূর্ব আয়ারল্যান্ডে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ ছাড়া বেলজিয়ামে ৭৯ বছর বয়সী একজন কানাডীয় লোক মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নেদারল্যান্ডসের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ গ্রোনিংজেনের অ্যাডর্পের কাছে একটি রাস্তায় গাছের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লেগে একজন মোটরচালক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হেগ শহরে গির্জার চূড়া ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় কয়েক ডজন বাড়ি খালি করা হয়েছে। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গির্জার খাঁড়া অংশটি নড়বড় করছে। এ ছাড়া একটি গাড়ির ওপর ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।
ঘূর্ণিঝড় ইউনিসের পূর্বসতর্কতা হিসেবে লন্ডন ছাড়াও দক্ষিণ ইংল্যান্ড, সাউথ ওয়েলস এবং নেদারল্যান্ডসজুড়ে সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। অনেক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ইউনিসের আঘাতে সমুদ্র উপকূল ভেসে যায় এবং রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ইউনিসের কারণে ইংল্যান্ডের ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানীর আশপাশে ঝড়ের আঘাতে আহত হওয়ার পরে তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৯৬ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড় ইউনিস প্রবাহিত হয়েছে। এটিই ইংল্যান্ডে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ দমকা হাওয়া।