হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

ড্রোন হামলায় জাহাজডুবির ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করছে বুলগেরিয়া, রাষ্ট্রদূতকে তলব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে দুটি জাহাজে ড্রোন হামলার পর একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। ছবি: এএফপি

কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে দুটি জাহাজে ড্রোন হামলার পর একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ। এ হামলায় রাশিয়াকে সন্দেহ করা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী রাদেভ জানান, ক্রাপেতস শহর থেকে ১৭ নটিক্যাল মাইল (৩১ কিলোমিটার) পূর্বে একটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই জাহাজের একজন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য জাহাজটি ইউক্রেনের মালিকানাধীন। বিয়ালা শহর থেকে ১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটিতে তিনটি ড্রোন আঘাত হানে। জাহাজটির ১৫ জন নাবিককেই উদ্ধার করা হয়েছে।

এর এক সপ্তাহ আগে বুলগেরিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে সমুদ্র ও আকাশপথ থেকে চালানো ড্রোন হামলায় আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। ওই জাহাজগুলোর একটি ‘আলফা ওয়াতান’ ডুবে যায়। জাহাজটির ১০ জন নাবিকের সবাই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাবিকদের মধ্যে ৯ জনই সিরীয়।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক ডাকেন রাদেভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এলিওনোরা মিত্রোফানোভাকে তলব করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পক্ষের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রমাণ না থাকলেও যুক্তি বলছে, এর ফল রুশদের পক্ষে যাচ্ছে।’

ন্যাটোর সদস্য বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি শিগগিরই ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কথা বলবেন। এর আগে ৬ অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে কারিগরি সহায়তা চেয়ে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আবেদন করেছিলেন রাদেভ। তখন তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হামলাগুলোর পেছনে রাশিয়া নাকি ইউক্রেন, তা স্পষ্ট নয়।

গ্রীষ্মকালে দায়িত্ব নেওয়া রাদেভ এর পর থেকে তাঁকে ‘রুশপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছেন।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছে ইউক্রেন। কৃষ্ণসাগর ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির আরেকটি রণক্ষেত্রে’ পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরে, বিশেষ করে এর পশ্চিম অংশে, জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া।

গত সপ্তাহে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে দুটি জাহাজে হামলার দিনই ইউক্রেন রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর সোচিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়।

মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের বন্দরে অস্ত্র ও দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী পণ্য সরবরাহকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। গত সপ্তাহে মিকোলাইভ ও চর্নোমর্স্ক বন্দরে এবং কৃষ্ণসাগরে চালানো হামলার কথা উল্লেখ করেছে রাশিয়া। তবে কিয়েভ ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের অভিযোগ, শস্য ও অন্যান্য বেসামরিক পণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার নিরাপত্তাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার একেবারে কাছাকাছি বাণিজ্যিক জাহাজে আরেকটি হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

রাদেভ জানান, আক্রান্ত জাহাজগুলোর একটি ছিল মাল্টার পতাকাবাহী ‘চেলসি ৩ ’। জাহাজটি ইউক্রেনের ওদেসা বন্দরে নিবন্ধিত। তিনি বলেন, জাহাজটির পাঁচজন নাবিককে সামান্য আঘাতের কারণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডুবে যাওয়া জাহাজটি সম্পর্কে তিনি আর কোনো তথ্য দেননি।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, ‘বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলা আবারও প্রমাণ করে, বেসামরিক মানুষের জীবন ও কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রতি মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে অবজ্ঞা দেখাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৃষ্ণসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে এবং বিশ্বকে জিম্মি করতে রাশিয়া এই অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দিতে হবে দৃঢ়তার সঙ্গে।’

বিশ্বের প্রধান শস্য রপ্তানিকারকদের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। কৃষ্ণসাগরে হামলা বন্ধ করতে উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। কৃষ্ণসাগরে নৌ-যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আহ্বান বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। এ অঞ্চলে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে আসছে দেশটি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।