ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ, জনসমাগমমূলক অনুষ্ঠান বাতিল এবং কিছু এলাকায় মদ্যপান নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফ্রান্সে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। দেশটির অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে সর্বোচ্চ মাত্রার ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, জুন মাসের জন্য এই ধরনের তাপমাত্রা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। গতকাল সোমবার (২২ জুন) দেশটির ইতিহাসে জুন মাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড গড়েছে। এদিন মধ্য ফ্রান্সের শাতোমেয়াঁ গ্রামে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে মানুষ সমুদ্রসৈকত, নদী ও হ্রদে ভিড় করছে। তবে এতে দুর্ঘটনাও বেড়েছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের মধ্যে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ধরনের দুর্ঘটনায় ইতালি ও জার্মানিতেও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।
তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে শত শত স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ স্থানান্তর করে অপেক্ষাকৃত শীতল জায়গায় পাঠদান চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ বাড়িতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারগুলো চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।
ফ্রান্সের বার্ষিক ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’ উৎসবের বেশ কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় প্যারিসসহ কয়েকটি এলাকায় মদ্যপানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ ম্যাচের নির্ধারিত উন্মুক্ত প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। দেশটিতে বছরের প্রথম সরকারি তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ বায়ুর প্রভাবে যুক্তরাজ্যেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লন্ডনের পুরোনো বাড়িগুলো শীতের জন্য তৈরি হওয়ায় গরমে সেগুলো অনেক সময় বাইরের চেয়েও বেশি উষ্ণ হয়ে উঠছে। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় গণপরিবহন, বিশেষ করে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চচাপ বলয়ের কারণে মেঘ সৃষ্টি কমে যাওয়ায় সূর্যের তাপ সরাসরি ভূমি ও বায়ুকে উত্তপ্ত করছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবই এই ধরনের তাপপ্রবাহকে আরও ঘন ঘন ও তীব্র করে তুলছে। ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। তাই শুধু অভিযোজন নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলাও জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকেরা।