রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার ভূখণ্ডে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামলাটি রাশিয়ার তাতারস্তানের নিঝনেকামস্ক শহরে চালানো হয়। শহরটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে। নিঝনেকামস্কে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) বিবিসি জানায়, রাত থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেনের ওই ড্রোন হামলা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এবং সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ছবিতে আকাশে ধোঁয়া ও আগুনের বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। তবে এসব ছবি ও ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মস্কো জানিয়েছে, শিল্প স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি দাবি করেছে, হামলার সময় সেখানে সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন—এমন বেসামরিক মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
তাতারস্তানের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। নিঝনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলায়েভ ঘটনাটিকে ‘সবার জন্য এক বিশাল বেদনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলার পর তাতারস্তানে শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, একই রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৫০ টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অনেক ভেতরে প্রবেশ করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য হিসেবে প্রায়ই রুশ যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ ও রসদ জোগান দেওয়া গুদাম, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২১ জন নিহত হন। এ ছাড়া সম্মুখ যুদ্ধের কাছাকাছি খারকিভে রুশ গোলাবর্ষণে একই রাতে আরও পাঁচজন নিহত হন।