বেপরোয়া গতিতে সাইকেল চালানোর কারণে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে প্রথমবারের মতো সাইকেল চালকদের জন্য ঘণ্টায় ১৫ মাইল বা প্রায় ২৪ কিলোমিটার গতিসীমা চালু করা হয়েছে। দেশটির ‘সাইক্লিং ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত শহরটির জনপ্রিয় একটি পথে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।
ক্যামব্রিজশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা—বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও ছোট শিশুদের পরিবার—দীর্ঘদিন ধরে সাইকেল চালকদের অতিরিক্ত গতির বিষয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নতুন এই উদ্যোগ।
রোববার (১৬ আগস্ট) দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, নতুন গতিসীমা শহরের ১৬ মাইল দীর্ঘ ‘গাইডেড বাসওয়ে’-র পাশে থাকা দুটি যৌথ ব্যবহারের পথে কার্যকর হয়েছে। পথগুলোতে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও ঘোড়সওয়ার সবাই একই জায়গা ব্যবহার করেন। নির্দিষ্ট স্থানে গতিসীমা শনাক্তকারী যন্ত্র ও সতর্কবার্তা স্থাপন করা হয়েছে। অতিরিক্ত গতিতে চলা সাইকেল আরোহীদের ধীর গতিতে চলার নির্দেশ দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ ও বাসওয়ে নিরাপত্তা দলের সদস্যরা স্পিড মনিটরিং যন্ত্র ব্যবহার করে নিয়ম ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করবেন। প্রথমবার ধরা পড়লে সতর্ক করা হতে পারে; পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কয়েকজন সাইকেল আরোহী বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। এক আরোহী ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি ঘণ্টায় ১৬ মাইল গতিতে চলছেন। অন্য একজন সীমাটিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।
অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতেও দেখা যায়, কিছু সাইকেল আরোহী বাসওয়ের পথে ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে চলছেন এবং কুকুর নিয়ে হাঁটা মানুষ, বয়স্ক পথচারী ও ছোট শিশুদের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ই-বাইক পরিবর্তন করে নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চালানোর বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
ক্যামব্রিজের বাসওয়ে ২০১১ সালে চালুর পর থেকেই নিরাপত্তা সমস্যায় জর্জরিত। গত বছর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউন্সিলকে ৬ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা দিতে হয়। বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জেনিফার টেলর, স্টিভেন মোয়ার ও ক্যাথলিন পিটস নামে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনাও এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কাউন্সিল বলেছে, নতুন গতিসীমার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এলাকাটিতে অতিরিক্ত গতিকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় নিয়মিত টহল ও আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।