হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

এপস্টেইন-কাণ্ড: সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী ম্যান্ডেলসন গ্রেপ্তার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পিটার ম্যান্ডেলসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভার সদস্য পিটার ম্যান্ডেলসনকে স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার লন্ডন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭২ বছর বয়সী ম্যান্ডেলসনকে গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেনের কূটনৈতিক সার্ভিসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার আগে, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের গভীরতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার সাবেক এই রাষ্ট্রদূত ও এপস্টেইনের মধ্যকার কিছু যোগাযোগ পুলিশকে হস্তান্তর করার পর চলতি মাসের শুরুর দিকে পুলিশ ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একজন সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে কর্মকর্তারা ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছেন। পরে আলাদা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে ওই ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, এ দিন সকালে ম্যান্ডেলসনকে তাঁর মধ্য লন্ডনের বাড়ি থেকে বডি ক্যামেরা পরিহিত সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বের হতে দেখা যায় এবং পরে তাঁকে একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই গ্রেপ্তারের অর্থ হলো—পুলিশ অপরাধ সংঘটনের সন্দেহ করছে, তবে এটি এখনো কোনো দোষ প্রমাণ করে না। ম্যান্ডেলসনের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জানুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের মধ্যকার ই-মেইলগুলো থেকে জানা যায়, তাঁদের সম্পর্ক জনসমক্ষে জানা তথ্যের চেয়েও অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। এমনকি ২০০৯ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী থাকাকালে ম্যান্ডেলসন এই অর্থদাতার (এপস্টেইন) সঙ্গে সরকারি গোপন তথ্য শেয়ার করেছিলেন।

ম্যান্ডেলসন চলতি মাসে স্টারমারের লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ থেকেও নিজের পদ ছেড়েছেন। তিনি এর আগে বলেছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে মেলামেশার জন্য তিনি ‘গভীরভাবে’ অনুতপ্ত। তবে সাম্প্রতিক তথ্য ফাঁসের বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

পুলিশ চলতি মাসের শুরুর দিকে লন্ডনে ও পশ্চিম ইংল্যান্ডে ম্যান্ডেলসনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁকে গতকাল ক্যামডেনের একটি ঠিকানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লন্ডনের একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উইল্টশায়ার ও ক্যামডেন এলাকার দুটি ঠিকানায় তল্লাশি পরোয়ানা জারির পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এ ধরনের মামলার বিচার অবশ্যই ‘ক্রাউন কোর্টে’ হতে হয়, যা কেবল গুরুতর ফৌজদারি অপরাধগুলো নিয়ে কাজ করে।

এপস্টেইন (যিনি ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকাকালে কারাগারে মারা যান) ও ম্যান্ডেলসনের এই সম্পর্ক এখন ব্রিটিশ রাজনীতির একটি বড় কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে ইতিমধ্যে সরকারের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকেও পদত্যাগের আহ্বানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পার্লামেন্ট থেকে তাঁর (ম্যান্ডেলসন) নিয়োগের সময়কার যাচাইকরণ (ভেটিং) সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার পর স্টারমার আরও বেশি চাপে পড়েছেন। এক মন্ত্রী গতকাল জানিয়েছেন, প্রথম দফার নথিগুলো মার্চের শুরুর দিকে প্রকাশিত হতে পারে।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে ম্যান্ডেলসনের কয়েক দশকের ক্যারিয়ার ছিল বেশ নাটকীয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নিউ লেবার প্রজেক্টের অন্যতম রূপকার হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। তবে তাঁকে দুবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৯৮ সালে এক সহকর্মীর কাছ থেকে নেওয়া গৃহঋণের তথ্য গোপন করার জন্য এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে একটি পাসপোর্ট আবেদনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠার পর।

তা সত্ত্বেও, ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি গর্ডন ব্রাউনের লেবার সরকারের মন্ত্রী হিসেবে পুনরায় নিযুক্ত হন। সবশেষে ২০২৪ সালের শেষের দিকে কিয়ার স্টারমার তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি পুনরায় জনসেবামূলক পদে ফিরে আসেন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর নিয়োগকে একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু ট্যারিফ (শুল্ক) কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে প্রথম দেশ হিসেবে ব্রিটেনের জন্য প্রাথমিক বিজয় অর্জন করেছিলেন। কিন্তু এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নথিপত্র সামনে আসতেই কয়েক মাস পর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। স্টারমার দাবি করেছেন যে, যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার সময় ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন।

বিশ্বজুড়ে পেশিশক্তির কাছে কোণঠাসা মানবাধিকার: জাতিসংঘ মহাসচিব

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর ৪ বিমানবন্দর বন্ধ

ম্যানচেস্টারে উগ্র ডানপন্থী-ইসলামবিরোধী মিছিল, পাল্টা মিছিলে উত্তাল শহর

বৈকাল হ্রদে ডুবে গেল মিনিবাস, ৭ চীনা পর্যটক ও রুশ চালকের মৃত্যু

ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি থেকে ইরানে হামলার ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিলেন স্টারমার

গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়া হলো ব্রিটিশ রাজার ভাইকে, চলবে তদন্ত

সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার

দিয়েগো গার্সিয়াসহ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে দিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাজ্য, খেপেছেন ট্রাম্প

নিলাম হবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কিশোরীবেলার চিঠি

পর্বতশৃঙ্গে প্রেমিকার মৃত্যু, বিচারের মুখোমুখি পর্বতারোহী