রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভের দিকে নতুন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন হামলাও বাড়িয়েছে মস্কো।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ডেপুটি প্রধান পাবলো পালিসা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ক্রেমলিনের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে রুশ সামরিক প্রধানেরা কিয়েভ ও চেরনিহিভে নতুন আক্রমণের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কাজ করছেন। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইউক্রেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাবলো পালিসা জানান, রুশ বাহিনী এখনই আক্রমণের জন্য একত্রিত হচ্ছে—এমন প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার আক্রমণের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করা।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর সময় বেলারুশ সীমান্ত ব্যবহার করে কিয়েভে স্থল অভিযানের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল রুশ বাহিনী। পরবর্তীতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাশিয়া আরও বেশি সংখ্যক সৈন্য সমাবেশের (মোবিলাইজেশন) সক্ষমতা পরীক্ষা করছে। ক্রেমলিন বর্তমানে যে পরিমাণ নতুন সৈন্য নিয়োগ করতে পারছে, তার চেয়ে বেশি সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে হারাচ্ছে। দেশটিতে নতুন করে সেনা সমাবেশের ঘোষণা আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় অসংখ্য রুশ নাগরিকেরা দেশ ছাড়ছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে আজ শনিবার পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের কাছ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
এর মাত্র কয়েক দিন আগেই সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করেন। রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আগেই ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে মস্কোকে রাজি করানোই ছিল তাঁর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, রুশ বিমান হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেনের অবিলম্বে সহায়তা প্রয়োজন। আগামী ছয় মাস অত্যন্ত নির্ণায়ক হতে যাচ্ছে এবং পোল্যান্ড তথা ন্যাটোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাশিয়া কিয়েভে প্রায় বিরতিহীনভাবে জেট-চালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্বীকার করেন, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াতে ইউক্রেনকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রযুক্তির উৎপাদন বহুগুণ ত্বরান্বিত করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ