রাশিয়ার একটি জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত এগারোজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মস্কো জানিয়েছে, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গেলেন্দঝিকে পর্যটকদের লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় আরও অন্তত ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উভয় দেশ দাবি করে আসছে যে, তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, কৃষ্ণসাগর উপকূলের জনপ্রিয় গেলেন্দঝিক শহরের কাছে একটি ব্যস্ত সমুদ্র সৈকতে সরাসরি আঘাত হানে ইউক্রেনের ওই ড্রোন এবং মুহূর্তে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাটিকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি উল্লেখ করে ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ যা ঘটেছে তা কোনো সামরিক অবকাঠামোর ওপর নয়, বেসামরিক জনগণের ওপর কিয়েভের পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা।’
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গেলেন্দঝিকের অন্তর্গত আরখিপো-ওসসিপোভকা নামক গ্রামটিতে বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকাজে সহায়তা ও দ্রুত চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন শিশুসহ ২১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদের’ আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
এর আগে গত মাসে ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিজিয়া অঞ্চলের একটি অবকাশযাপন ক্যাম্পে কিয়েভের হামলায় চার শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল মস্কো।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া নিজেই রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের একাধিক শহরে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এতে বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন হাজার হাজার ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে, সম্প্রতি রুশ ভূখণ্ডের গভীরে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। মূলত তেল শোধনাগার এবং ই-কমার্স গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ রাশিয়ানরাও যুদ্ধের প্রভাব ও ভয়াবহতা টের পান। তবে রুশ সমুদ্র সৈকতে ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলা সংঘাতকে আরও চরম ও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল।