আন্তর্জাতিক চুক্তি ভঙ্গ করে আবারও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো কার্যক্রম শুরু করতে পারে রাশিয়া। সম্প্রতি এমনটাই হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার থিংক ট্যাংক ভলদাই ডিসকাশন ক্লাবের এক আলোচনা সভায় পুতিন এই দাবি করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য মিলে ১৯৬৩ সালের ৫ আগস্ট স্বাক্ষর করে নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি। এই চুক্তির আওতায় মহাশূন্যে, বায়ুমণ্ডলে কিংবা সাগরের তলদেশে কোনো দেশই কোনো ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারবে না। বৃহস্পতিবার ভলদাই ডিসকাশন ক্লাবের আলোচনায় পুতিন এই চুক্তি থেকে রাশিয়াকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দেন।
এ সময় পুতিন বলেন, ‘সুস্পষ্ট চিন্তার ও পরিষ্কার স্মৃতির কোনো ব্যক্তিই রাশিয়ার বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার কথা কল্পনাও করবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই শুনে আসছি। তবে ঠিক কখন এ ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো উচিত, সে বিষয়ে আমি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে প্রস্তুত নই।’
এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের পরমাণু শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘বিরেভেস্তনিকের’ চূড়ান্ত সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। এমনটাই জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই পুতিনের মুখপাত্র ‘বিরেভেস্তনিক’-এর পরীক্ষার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, পরমাণু শক্তিচালিত পরবর্তী প্রজন্মের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘বিরেভেস্তনিক’-এর পরীক্ষা আসন্ন।
পুতিন বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমি যে কৌশলগত অস্ত্রের ঘোষণা দিয়েছিলাম এবং যার কথা আমি প্রায়ই বলতাম, সেই আধুনিক ঘরানার কৌশলগত অস্ত্রের কাজ আমরা শেষ করেছি।’ সেই ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা সফল হয়েছে উল্লেখ করে পুতিন বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম বিরেভেস্তনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা আমরা চালিয়েছি।’