হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

ইউরোপের চোরাচালান চক্রে মাদক ও মানুষ যেন একই পণ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: দ্য ন্যাশনাল

ইউরোপে অপরাধী চক্রগুলো ক্রমেই মানুষ ও মাদক—দুই ধরনের চোরাচালানেই অভিবাসী পাচারের রুটগুলোকে ব্যবহার করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ইউরোপোলের অভিবাসী পাচারবিরোধী টাস্কফোর্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইউরোপোলের ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার অ্যাগেইনস্ট মাইগ্র্যান্ট স্মাগলিং’-এর টিম লিডার আলিনা আরুকসান্দেই জানান, এই চক্রগুলো মূলত বহুমুখী অপরাধের সংগঠন। একই অবকাঠামো ব্যবহার করে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধ অভিবাসী পাচার করছে এবং একই রুটের বিপরীত দিকে আফ্রিকার দেশগুলোতে মাদক পাঠাচ্ছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানায়, সম্প্রতি ফ্রান্স ও স্পেনের সঙ্গে দুই বছরের যৌথ তদন্তে আলজেরীয় একটি অপরাধী চক্রকে ভেঙে দিয়েছে ইউরোপোল। চক্রটি আলজেরিয়া থেকে স্পেনে অভিবাসী পাচার করে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো আয় করেছে। অভিযানে মোট ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের অধিকাংশই আলজেরীয় এবং ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি ও পোল্যান্ডের অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়—পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে স্পেনের মূল ভূখণ্ড ও বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে এই পথে ৫ হাজার ৬৪৭ জন পৌঁছান, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। এদের প্রায় অর্ধেকই আলজেরীয়। অর্থনৈতিক সংকটকে অভিবাসনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অধিকাংশ অভিবাসী।

এই রুট পাচারকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে মূলত এর বিপুল লাভের কারণে। দ্রুতগতির স্পিডবোটে কয়েক ঘণ্টায় স্পেনে পৌঁছে দিতে একজন অভিবাসীর কাছ থেকে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেওয়া হয়। আলিনা আরুকসান্দেই একে ‘বিলাসবহুল সেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

‘নার্কোলাঞ্চা’ নামে পরিচিত এসব দ্রুতগতির নৌযান ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে। একই নৌযান মরক্কো থেকে স্পেনে গাঁজা পাচারেও ব্যবহৃত হয়। তবে যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় আট মিটার দীর্ঘ একটি নৌযানে কখনো ৭০ জন পর্যন্ত অভিবাসীকে গাদাগাদি করে নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এ রুটে অন্তত ১৫০ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।

স্পেন থেকে আলজেরিয়ায় ফেরার সময় এসব নৌযানে ইউরোপ থেকে মাদক বহন করা হয়। এর মধ্যে ইউরোপে তৈরি এমডিএমএ এবং ইউরোপীয় বন্দর হয়ে আসা দক্ষিণ আমেরিকার কোকেন রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার এমডিএমএ বড়ি, ৬১ কেজি হাশিশ ও ৫০০ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়।

ইউরোপোলের কর্মকর্তার মতে, এসব অপরাধী নেটওয়ার্ক এখন আরও পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশে থাকা অপরাধী সেলগুলো একে অপরের সম্পদ ও সক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যবসায়িক মডেলে কাজ করছে, যাতে প্রতিটি পাচারযাত্রা থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করা যায়।