বেলজিয়ামের এক সময়ের গাড়ি বিক্রেতা ২৬ বছর বয়সী ক্লেমাঁ ভানডেনকার্কহোভকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন দেশটির রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স লরাঁ। আইনি স্বীকৃতির ফলে ক্লেমাঁ এখন রাজপুত্রের মর্যাদা পাবেন। তবে রাজপুত্র হিসেবে আবির্ভূত হলেও নিয়ম অনুযায়ী তিনি বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারবেন না এবং কোনো রাজকীয় ভাতাও পাবেন না। যদিও বাবার সম্পদের উত্তরাধিকারী হবেন তিনি।
বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রিন্স লরাঁ ও বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের সম্পর্কের ফল ক্লেমাঁ। প্রায় ছয় মাস আগেই একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে নীরবে তাঁকে প্রিন্স লরাঁর পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে।
ক্লেমাঁর মা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের প্রকৃত নাম আইরিস ভানডেনকার্কহোভ। প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোতে। পরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। ২০০০ সালে ক্লেমাঁর জন্ম দেন ভ্যান। সন্তানটির নাম ‘ক্লেমাঁ’ রাখাকে অনেকে লরাঁর তেরভুরেনের সরকারি বাসভবন ‘ভিলা ক্লেমন্তিন’-এর প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।
এদিকে প্রিন্স লরাঁ ২০০৩ সালে বিয়ে করেন প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে। পরে প্রিন্স লরাঁ ও ক্লেয়ারের সংসারে তিন সন্তান জন্ম নেয়—প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স আয়মেরিক ও প্রিন্স নিকোলা।
এবার নতুন করে রাজপুত্র বনে যাওয়া ক্লেমাঁ তাঁর বাবার পারিবারিক নাম ‘স্যাক্স-কোবুর্গ’ গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। বেলজিয়ামের দৈনিক ‘হেট নিউজব্লাড’-কে তিনি জানান, বাবার নাম গ্রহণ করার ইচ্ছা হয়তো তাঁর আছে, কিন্তু নিজের ‘ভানডেনকার্কহোভ’ নাম নিয়েও তিনি গর্বিত। তাঁর মতে, মায়ের দেওয়া এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করা তাঁর প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হবে।
ক্লেমাঁ গত কয়েক বছর ধরেই জানতেন, তিনি একজন রাজপুত্রের সন্তান। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রচারিত ফ্লেমিশ টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিএমের একটি প্রামাণ্যচিত্রে তিনি প্রথমবার নিজের গল্প বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ১৩ বছর বয়সে একটি শপিং সেন্টারে তিনি হঠাৎ প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে দেখা করেন, যদিও তখন তিনি জানতেন না এই লোকটিই তাঁর বাবা। সেই ঘটনার আরও তিন বছর পর ১৬ বছর বয়সে তাঁর মা তাঁকে বাবার পরিচয় জানান। পরিচয় জানার চার বছর পর ২০২০ সালে সাহস সঞ্চয় করে তিনি প্রিন্স লরাঁকে ফোন করেন। কয়েক দফা কথোপকথনের পর তাঁদের সাক্ষাৎ হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রিন্স লরাঁ নিজেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তাব দেন।
ক্লেমাঁ জানান, তাঁরা একসঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফলাফলে তাঁদের ডিএনএ মিলের সম্ভাবনা পাওয়া যায় ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে এটি প্রথম বিতর্ক নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা, সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবার্টও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বীকার করেছিলেন, তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিল্পী ডেলফিন বোয়েল শেষ পর্যন্ত আদালতে জয়ী হয়ে রাজকুমারীর উপাধি পান এবং বর্তমানে তিনি ডেলফিন দ্য স্যাক্স-কোবুর্গ নামে পরিচিত।