হোম > বিশ্ব > চীন

বন্যায় বিধ্বস্তের এক সপ্তাহেই নেপাল সীমান্তের সড়ক আবার নির্মাণ করল চীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

২০২৪ সালের স্যাটেলাইট চিত্রে চীন-নেপাল সীমান্ত এবং নেপালের রাসুয়াগড়ি সীমান্ত চৌকি দেখা যাচ্ছে। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ে যাওয়ার সড়ক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তা পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সড়কটির শেষ অংশও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোত উপত্যকায় নেমে আসে। এতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সঙ্গে যুক্ত সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপালের সীমান্তবর্তী শহর রাসুওয়াগাধি পর্যন্ত পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এটি।

সড়কটি পুনরায় চালু হওয়ায় চীনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন বিপুলসংখ্যক ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারবে। ফলে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা নিখোঁজদের উদ্ধারে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিক উদ্ধারকারী দল দুর্গত এলাকায় পৌঁছে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

এদিকে নেপালে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় আরও ১১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেল নিয়ে। কাদায় ভরা এসব টানেলে ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এরই মধ্যে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের উদ্ধারে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ দল কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও সহযোগিতা করছেন।

তবে অনেক টানেলে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকাজে যুক্ত পর্বতারোহী ও গাইডরা জানিয়েছেন, কিছু টানেলে মানুষের পক্ষে প্রবেশ করাই সম্ভব নয়। সেখানে বুলডোজার ও এক্সকাভেটরের মতো ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলে প্রায় ৫০০ মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা মঙ্গলবার এক হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। দুর্যোগের পর এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিতদের উদ্ধারের আশা কমে আসছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত আরও কয়েকজন বিদেশি পর্যটক ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩২৪ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন এখনো নিখোঁজ।

চীন ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ এবং ড্রোন ও পানি পরিশোধন সরঞ্জামসহ অতিরিক্ত ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। নেপাল জানিয়েছে, দুর্যোগের পর দেশটিতে ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা এসেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতার কারণেই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে তিব্বতের দিকের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির তথ্য নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ১৬ জন নিহত এবং প্রায় ৫৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতভিত্তিক অধিকারকর্মী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, চীনের কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে ওই অঞ্চলের দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য খুব কমই প্রকাশ পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমবাহ গলন, পারমাফ্রস্টের পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমালয় ক্রমেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় সীমান্তবর্তী অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বিষয়ে আরও স্বচ্ছ পরিবেশগত তথ্য এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জরুরি।